কুমিল্লারবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর এই ক্ষতির জবাব কে দেবে, প্রশ্ন হাসনাত আবদুল্লাহর

প্রতিবেদক
Cumilla Press
অক্টোবর ১০, ২০২৬ ২:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে হেনস্তা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পরীক্ষা দিতে আসা চাকরিপ্রার্থীরা। চাকরিপ্রার্থীদের এই ক্ষতির দায় কে নেবে- জানতে চেয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১টা ১২ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ‘আজ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক্সাম (পরীক্ষা) ছিল। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ৩ লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থী ঢাকায় এসেছিল এই পরীক্ষা দিতে। কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, কেউ বা ধারদেনা করে ঢাকায় এসেছে- নিজের মেরিট (যোগ্যতা) দিয়ে একটা জব পাওয়ার আশায়।

গতকাল রাত থেকেই ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছিল মন্তব্য করে তিনি লেখেন, ‘আর আজ? ৩ লাখ ক্যান্ডিডেট যখন ১০০টা পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকল, পরীক্ষা শুরুর ঠিক ৫ মিনিট আগে ঘোষণা হলো, ‘প্রশ্নফাঁসের সত্যতা পাওয়ায় এক্সাম ক্যানসেল (পরীক্ষা বাতিল)।’ কী নির্মম রসিকতা!’

এই ৩ লাখ তরুণ যে হ্যারাসমেন্ট আর আর্থিক ক্ষতির মধ্যে ফেললেন, এর দায় কে নেবে- প্রশ্ন হাসনাতের।

তিনি লেখেন, ‘সরকার আবারও পরীক্ষার আয়োজন করতে ডাবল টাকা খরচ করবে। এই টাকা জনগণের টাকা। এই জবাবদিহিতা কে করবে? আজ এই ৩ লাখ স্টুডেন্ট চরম ফ্রাস্ট্রেশন নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে। কিছুদিন পর আবার ধারদেনা করে ঢাকায় আসবে এক্সাম দিতে। কীসের আশায়? আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার আতঙ্ক নিয়ে?

বেকারদের পকেটের টাকা আর চোখের জল নিয়ে যে সিন্ডিকেট হোলি খেলছে, তাদের পিঠের চামড়া ভুখা তরুণরা তুলে নেবে হুঁশিয়ারি করে এনসিপি নেতা বলেন, ‘বছরের পর বছর কোনো সার্কুলার নেই, রিক্রুটমেন্ট নেই। আর যখন একটা এক্সাম হয়, সেখানে ভর করে প্রশ্ন ফাঁসের সিন্ডিকেট! আর কত? বেকারদের পকেটের টাকা আর চোখের জল নিয়ে যে সিন্ডিকেট হোলি খেলছে, তাদের পিঠের চামড়া কিন্তু ভুখা তরুণরা তুলে নেবে।’

তিনি লেখেন, দুইশর বেশি পদের বিপরীতে পরীক্ষা দিচ্ছিল প্রায় ৩ লাখ পরীক্ষার্থী। কী বিপুল বেকার জনগোষ্ঠীর দেশে, এইটা ভাবেন! কর্মসংস্থান সৃষ্টির মিথ্যা ব্লাফিং (ধোঁকা) শেষে সরকার গঠন করে কয়টা সরকারি পদও বিক্রি করে দিচ্ছে টাকার বিনিময়ে! সিন্ডিকেটের নৈরাজ্য থামাতে পারছে না।’

প্রশ্নফাঁসে জড়িত আমলা, সরকারি লোক, দলীয় লোক সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘সংশ্লিষ্টতা থাকলে সরাসরি ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার করতে হবে। গ্রেপ্তার করে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে শাস্তি কার্যকর করতে হবে।’

সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে মন্তব্য করে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটন করতে না পারলে পদত্যাগ করতে হবে। অবশ্য, মন্ত্রী নিজেই সিন্ডিকেটের প্রধান হলে সিন্ডিকেট উৎপাদন হবে, উৎপাটন হবে না।’