কুমিল্লাশুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গোপনে ইরানে হামলা করেছিল সৌদি আরবও

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মে ১৩, ২০২৬ ৪:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছেল ইরান। হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল সৌদি আরবও। জবাবে তেহরানে গোপনে একাধিক পাল্টা হামলা চালিয়েছে রিয়াদও।

গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে দেশটির ৯৫তম জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে সৌদি রয়্যাল এয়ার ফোর্সের যুদ্ধবিমান।

বিষয়টি সম্পর্কে জানা শোনা আছে এমন দুজন পশ্চিমা কর্মকর্তা ও দুজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইরানে সৌদি আরবের এমন সরাসরি সামরিক অভিযানের খবর আগে কখনোই জানা যায়নি। ফলে এটা স্পষ্ট করছে যে প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় সৌদি আরব অনেক বেশি সাহসী হয়ে উঠছে।

গত মার্চের শেষ দিকে সৌদি আরবের বিমান বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে ওই অভিযান পরিচালনা করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তেহরানে সৌদি আরবের অভিযানের লক্ষ্যবস্তু কী ছিল রয়টার্স স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

ইরানে হামলা চালানো হয়েছে কিনা সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সরাসরি কিছু বলেননি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গভীর সামরিক সম্পর্ক থাকায় সৌদি আরব ঐতিহ্যগতভাবে আত্মরক্ষার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভর করে এসেছে। কিন্তু ১০ সপ্তাহের এই যুদ্ধ দেশটিকে এমন সব আক্রমণের মুখে অরক্ষিত করে তুলেছে যা মার্কিন সামরিক সুরক্ষাবলয়কেও ভেদ করেই সৌদিতে ইরান হামলা চালিয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে বিমান হামলার পরপরই তেহরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি দেশেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে পাল্টা হামলা শুরু করে।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিকেই নয়, বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর এবং তেল অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করে। এমনকি হরমুজ প্রণাণি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করা হয়।

গত সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে। এরপরই ইরানে সৌদি আরবের গোপন হামলার খবর সামনে এল।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির সময়ে ইরানের হামলায় বিপর্যস্ত উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো যে পাল্টা আঘাত হেনেছে, সে খবর এত দিন অনেকটা আড়ালে ছিল।

কিন্তু ইরান যুদ্ধের সময় সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের কৌশল একই রকম ছিল না। সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানের বিরুদ্ধে বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরানের কাছ চাপ সৃষ্টি করে ক্ষয়ক্ষতির মূল্য আদায়ের চেষ্টা করছে এবং তেহরানের সাথে প্রকাশ্য কূটনীতিতে খুব কমই অংশ নিচ্ছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবকে সংঘাতকে আরও বাড়তে না দেয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। এছাড়া রিয়াদে নিযুক্ত তেহরানের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমেসহ ইরানের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে। তবে এ বিষয়ে সৌদিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইরানের সাথে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো চুক্তি হয়েছে কিনা সে বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। তবে তিনি বলেন, ‘আমরা এই অঞ্চল ও এর জনগণের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধির লক্ষ্যে উত্তেজনা প্রশমন, আত্মসংযম এবং উত্তেজনা হ্রাসের পক্ষে সৌদি আরবের ধারাবাহিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি।’