বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো মাঠে নামতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির অবসর ঘোষণার পর এই ফিফা উইন্ডোতেই নতুন যুগে পা রাখবে আলবিসেলেস্তেরা। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত এই ফিফা উইন্ডোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা না হলেও, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সূচি মোটামুটি পরিষ্কার। এই সময়ে জাতীয় দল নিজেদের দেশে তিনটি ম্যাচ খেলবে। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের রানার্সআপ দলটি আবারও দেশের সমর্থকদের সামনে মাঠে নামবে।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ওলের খবর অনুযায়ী, আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে সূচি ঘোষণা করবে। সবকিছু ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে গেলেও ঘোষণা দিতে বিলম্ব হচ্ছে, কারণ ম্যাচগুলো ফিফার দৃষ্টিতে ‘ক্লাস এ’ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হবে কি না, সেটির নিশ্চয়তার অপেক্ষায় রয়েছে এএফএ। নীতিগতভাবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিপক্ষ ও দল
দেশের মাটিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় বলিভিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ৩ অক্টোবর এস্তাদিও মনুমেন্টালে আর্জেন্টিনা লড়বে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে এবং একই স্টেডিয়ামে ৬ অক্টোবর প্রতিপক্ষ আরেক আফ্রিকান দেশ বেনিন।
এএফএ মঙ্গলবার প্রতিপক্ষ, তারিখ ও স্টেডিয়ামগুলোর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে। তবে একই সঙ্গে অনুশীলনের জন্য ডাকা খেলোয়াড়দের তালিকাও প্রকাশ করা হবে কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
ম্যাচগুলো সামনে রেখে অনুশীলন শুরু হতে পারে ২২ অথবা ২৩ সেপ্টেম্বর এজেইজা ট্রেনিং কমপ্লেক্সে। স্কোয়াডটি বেশ বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া দলের প্রায় সব খেলোয়াড়ই থাকতে পারেন। পাশাপাশি নতুন মুখদেরও সুযোগ দেওয়া হবে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা না পাওয়া কয়েকজন খেলোয়াড় এবং সুযোগের অপেক্ষায় থাকা বেশ কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়ও দলে থাকতে পারেন।
এখনও যে বিষয়গুলো চূড়ান্ত হওয়া বাকি, তার মধ্যে অন্যতম হলো এই প্রীতি ম্যাচগুলো ফিফার ‘ক্লাস এ’ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে গণ্য হবে কি না। এএফএ আশা করছিল, মঙ্গলবার সকালেই ফিফার কাছ থেকে এ বিষয়ে উত্তর পাওয়া যাবে।
যদি ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়, তাহলে বিশ্বকাপের ফাইনালে সংঘর্ষের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা পাওয়া লেয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা ও থিয়াগো আলমাদা এই ম্যাচগুলোতে নিজেদের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে পারবেন। এছাড়া ম্যাচগুলো ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে হিসাব হবে এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলোয়াড়দের সামগ্রিক পরিসংখ্যানেও যোগ হবে।
মেসিকে শেষবার খেলতে দেখার অপেক্ষায় সমর্থকরা
এই প্রীতি ম্যাচগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে দেশের মাটিতে, নিজেদের সমর্থকদের সামনে লিওনেল মেসির শেষবারের মতো অফিসিয়াল ম্যাচে খেলতে দেখা। সত্যি বলতে, মেসি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন যে তিনি জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন। তবুও তাকে দেশের সমর্থকদের সামনে একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলতে দেখার ইচ্ছা সবারই রয়েছে।
মেসির সেই আবেগঘন ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ধাক্কা এখনও তাজা। দুই দশকেরও বেশি সময়ের অবিশ্বাস্য যাত্রার পর কেন তিনি আর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন না, সেটিও তিনি ব্যাখ্যা করেছেন।
এই দীর্ঘ যাত্রায় ছিল অসংখ্য উত্থান-পতন এবং শেষদিকে ছিল এক দুর্দান্ত সমাপ্তি। যেখানে ছিল একটি বিশ্বকাপ, ২০২৬ সালের একটি ফাইনাল, দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা এবং এমন একটি জাতি, যারা তাকে নিজেদের সবচেয়ে বড় তারকা ও প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছে।












