স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যার দায়ে খাদ্য ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সেতু প্রকল্পের সাবেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া হত্যার আলামত নষ্টে সহায়তার দায়ে আবাসিক হোটেলের সহকারী ম্যানেজার আব্দুল মালেককে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বরিশালের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি জানিয়েছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মহসিন মন্টু।
রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডিত জহিরুল ইসলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাজেমহল গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ মুন্সীর ছেলে। অপর আসামি আব্দুল মালেক হোটেল আলীর সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার নথির বরাতে বেঞ্চ সহকারী মো. শাহআলম জানান, ২০১০ সালে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় খাদ্য ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সেতু প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন জহিরুল ইসলাম। ওই সময় তিনি স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে সঙ্গে নিয়ে বরিশালে আসেন এবং হোটেল আলীর পঞ্চম তলার একটি ভিআইপি কেবিনে অবস্থান করতেন।
২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই হোটেল কক্ষ থেকে শোভার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি কোতয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন নিহতের শ্যালিকা নিলুফার আইরিন জুমু।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কোতয়ালী মডেল থানার এসআই আনোয়ার হোসেন দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার বিচারকাজে আদালত ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর সোমবার রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান বলেন, রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট।











