কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাদক-জুয়া বন্ধের ঘোষণার জেরে বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ৯:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বরিশালের মুলাদীতে মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর শুক্কুর আলী ব্যাপারী (৪০) নামে এক বিএনপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোররাত ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত শুক্কুর আলী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চরধলেশ্বর গ্রামের আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর ছেলে। তিনি গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার উপজেলার ডুমুরীতলা লঞ্চঘাট এলাকায় মাদক সেবন, জুয়া খেলা এবং নয়াভাঙনী নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেন শুক্কুর আলী। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘোষণার জের ধরে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকার সালাউদ্দীনের দোকানে চা পান করার সময় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।

শুক্কুর আলীর বাবা আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর দাবি, ডুমুরীতলা গ্রামের মোতালেব ওরফে মতু ফরাজীর ছেলে রহমত ফরাজী (৩৮), বারেক ফরাজী (৩৬), মুজাম্মেল ফরাজী (৩২), মন্টু ফরাজী, রফিক ফরাজী ও তাসলিমা নাসরিনসহ কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

অভিযুক্ত বারেক ফরাজী গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এবং বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।

হামলার পর স্থানীয় লোকজন শুক্কুর আলীকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর তাঁরা পেয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।