ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ট্রলি পেতে ২০০ টাকা বকশিশ না দেওয়ায় অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে পাঁচ তলায় হেঁটে উঠতে হলো রোগীসহ স্বজনদের।
এ ঘটনার পরে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।সেই অনুযায়ী ঢাকা নেওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে পাঁচ বছরের শিশু রুহুল আমিন।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি ঘটে ফরিদপুর সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানাধীন কানাইপুর ইউনিয়নের পুরদিয়া গ্রামে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে শিশু রুহুল আমিন তার বাড়ির পাশের রাস্তায় খেলা করছিল।এ সময় একটি বেপরোয়া ভ্যান তার পেটের ওপর দিয়ে চলে যায়। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে তাকে প্রথমে ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসকরা প্লাস্টার শেষে তাকে শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে নেওয়ার পরমর্শ দেন। তবে আসল ভোগান্তি শুরু হয় এর পরেই। শিশুর পরিবার অভিযোগ করেন, ট্রমার সেন্টার থেকে শিশুকে পাঁচ তলার সার্জারি ওয়ার্ডে নেওয়ার জন্য ট্রলি খোঁজাখুঁজি শুরু করলে সেখানকার একজন ওয়ার্ড বয় এবং ‘আশা’ নামে বিনা বেতনের একজন স্বেচ্ছাসেবী মেয়ে ট্রলি পেতে ২০০ টাকা দাবি করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, টাকা দিতে না পারায় বাধ্য হয়ে স্বজনরা নিজেরাই শিশুটিকে কোলে নিয়ে এবং হাতে অক্সিজেনের বোতল ধরে পাঁচ তলার সার্জারি ওয়ার্ডে হেঁটে নিয়ে যান।
সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তবে নিয়তির চরম নির্মমতায় ঢাকায় নেওয়ার পথেই না ফেরার দেশে চলে যায় শিশু রুহুল।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।












