হজ ইসলামের পাঁচটি মূল ভিত্তির একটি। পবিত্র কুরআনে সুরা আল-হজ নামে স্বতন্ত্র একটি সুরাও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সামর্থ্যবান প্রত্যেকের জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ। হাদিসে এসেছে, একবার আকরা ইবন হাবিস (রা.) রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ্ (সা.), হজ কি প্রতি বছরই ফরজ, নাকি জীবনে একবার? জবাবে নবীজি (সা.) বলেন, জীবনে একবার হজ করা ফরজ। এর অধিক যদি কেউ করে, তবে তা তার জন্য অতিরিক্ত (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৭২১)।
খোদ মহান রাব্বুল আলামিনের কাছেও হজ সর্বোত্তম আমলগুলোর মধ্যে একটি। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করা হলো- সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনা। এরপর আবারও জিজ্ঞাসা করা হলো, তারপর কোনটি? নবীজি (সা.) বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। পরবর্তীতে আবারও জিজ্ঞাসা করা হলো, তারপর কোনটি? জবাবে রাসুল (সা.) বললেন, হাজ-ই-মাবরূর (মাকবুল হজ)। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪২৯)
প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও জীবনে তিনবার হজ পালন করেছেন। এরমধ্যে দু’টি ছিল হিজরতের আগে এবং একটি হিজরতের পর। এই হজের (শেষোক্ত) সঙ্গে তিনি ওমরাও পালন করেছেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৮১৫)
অন্যদিকে হজের ফজিলতের ব্যাপারে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কেউ হজ করে এবং তাতে কোনোরকম অশ্লীল ও অন্যায় আচরণ না করে (কোনোপ্রকার ভুল-ত্রুটি ছাড়া যথাযথভাবে হজের করণীয়গুলো সম্পন্ন করা), তবে তার পূর্ববর্তী গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হয়। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৮০৯)
এ ছাড়াও আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা ধারাবাহিক হজ ও ওমরা আদায় করতে থাক। এ দু’টো আমল দারিদ্র ও গুনাহ বিদূরিত করে দেয়, যেমন ভাটার আগুনে লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা-জং দূরীভূত হয়ে থাকে। একটি কবুল হজের প্রতিদান তো জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ২৮৮৭; সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৮০৮)
তবে হজ ঘিরে প্রায়সময়ই নানা কথা শোনা যায়। যার ফলে অনেকেই এসব বিষয় নিয়ে ধোঁয়াশায় ভুগেন। এরমধ্যে প্রচলিত অন্যতম একটি বিষয় হলো- নিয়ত করেও কেউ যদি হজে যেতে না পারেন, তাহলে গুনাহ হবে কিনা।


এ বিষয়ে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ’র মত, হজের নিয়ত করেও যদি কারও হজের সামর্থ্য না হয়, তবে এর জন্য কোনো গুনাহ হবে না। বরং, কেউ যদি খাস মনে হজের নিয়ত করে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও যদি সামর্থ্য না হওয়ার কারণে হজ করতে না পারেন, তারপরও খাস মনে নিয়ত ও চেষ্টার কারণে তিনি মহান আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশা রাখতে পারেন।












