চাঁদপুর সদর উপজেলায় তথাকথিত ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চালানোর সময় সংঘটিত হামলায় শাহজাহান পাটওয়ারী (৪৫) নামের এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড মান্দারী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শাহজাহান ওই গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মৃত মুকবুল হোসেন পাটওয়ারীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে মান্দারী এলাকায় স্থানীয় একদল যুবক মাদকবিরোধী অভিযানের নামে মহড়া দিচ্ছিল। এ সময় যুবকদের ছোটাছুটি ও হইচই দেখে প্রবাসী শাহজাহান পাটওয়ারী কৌতূহলবশত কারণ জানতে চেয়ে তাদের ডাক দেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযানে থাকা ওই যুবকেরা। একপর্যায়ে তারা শাহজাহানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
ইটের আঘাতে শাহজাহান গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে এক চিকিৎসকের কাছে নেন। পরে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যায় মহামায়া এলাকায় ফুঁসে ওঠে ক্ষুব্ধ জনতা। তারা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সন্ধ্যার পর থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ১১টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদের নির্দেশে ও তার পাঠানো ক্যাডারদের হামলাই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।”
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ দাবি করেন, ঘটনার সময় আমি এলাকায় উপস্থিত ছিলাম না, একটি দলীয় কর্মসূচিতে চাঁদপুর ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে আনা রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












