কুমিল্লায় চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৮২০ জনের মধ্যে প্রায় ৩৩ শতাংশই দাউদকান্দি উপজেলার বাসিন্দা। জেলার মোট আক্রান্তের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই একটি উপজেলায় হওয়ায় সেখানে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ৩ অগাস্টের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় ১৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দাউদকান্দি উপজেলাতেই শনাক্ত হয়েছেন ১২ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
চলতি বছরে কুমিল্লা জেলায় মোট ৮২০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দাউদকান্দি উপজেলার রোগীর সংখ্যা ২৭২ জন; যা জেলার মোট আক্রান্তের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
গত বছরও কুমিল্লার মধ্যে এই দাউদকান্দিতেই ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাবে ওই বছর উপজেলায় ডেঙ্গুতে সাতজনের মৃত্যু হয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দাউদকান্দিতে শনাক্ত হওয়া ২৭২ জন রোগীর মধ্যে ১০৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে চারজন গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী।


চলতি বছরে জেলায় মোট ৫৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৬৮ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
এছাড়া কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৩৬ জন এবং কুমিল্লা সদর হাসপাতালে আটজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। শুধু দাউদকান্দি উপজেলাতেই গত জুলাই মাসে আক্রান্ত হয়েছে ১৮২ জন।
জেলা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, “আমি দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছি। স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যু নেই।”
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, “গত বছর দাউদকান্দি পৌরসভার সাহাপাড়া, দোনারচর ও সবজিকান্দি এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছিল। এবারও মূলত এসব এলাকা ও আশপাশ থেকেই রোগীরা আসছেন।”


তিনি আরও বলেন, “আমরা আগে থেকেই বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছি। তাদের কাছে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেই যেন তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের জানানো হয়। এতে সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র জানা সহজ হবে এবং গত বছরের মতো সমস্যায় পড়তে হবে না।”
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আক্তার বলছেন, “আমরা সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোকে নির্দেশনা দেব, যেন তারা সংক্রমণ সনাক্তের তথ্য গোপন না করে। আর সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পৌরসভা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে চালু আছে।”











