কুমিল্লামঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘টিকটক’ বানাতে শিশুর মুখে বেত, রায়পুরে সাবেক শিক্ষককে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ১৯, ২০২৬ ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক শিশুশিক্ষার্থীর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগে এক সাবেক শিক্ষককে ঘিরে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে।’ সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত শিক্ষক ভিডিওটি মুছে ফেলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন। পরে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি ক্ষমা চান।

অভিযুক্ত ইমরান হোসেন রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের হায়দারগঞ্জ এলাকার একটি মাদ্রাসার সাবেক সহকারী শিক্ষক। তাঁর বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়।

স্থানীয় সূত্র ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ইমরান হোসেন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন। সম্প্রতি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কান্নারত এক শিশুশিক্ষার্থীর মুখে বারবার একটি বেত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কিত শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে হাত দিয়ে বেত সরানোর চেষ্টা করলেও ওই শিক্ষক তা অব্যাহত রাখেন।

সমালোচনার মুখে দেওয়া ভিডিও বার্তায় ইমরান হোসেন দাবি করেন, পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে শিশুটি কান্না করছিল। তাকে শান্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি ‘দুষ্টামি করে’ মুখে বেত ধরেছিলেন। শিশুটিকে মারধর বা ধমক দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এ ঘটনায় তিনি সবার কাছে ক্ষমা চান।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, প্রায় দুই মাস আগে ইমরান হোসেনকে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অকারণে শাস্তি দেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। পরে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, চাকরি হারানোর পর ইমরান পূর্বে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। বর্তমানে মাদ্রাসাটি বন্ধ রয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, শিশুর প্রতি এমন আচরণের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রায় দুই মাস আগে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি রায়পুরে অবস্থান করছেন না। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।