২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেন যদি নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়েও সমতা ভাঙতে না পারে, তাহলে শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণ হবে টাইব্রেকারে। সেই সম্ভাব্য পরিস্থিতিকে সামনে রেখে স্পেনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে তাদের নির্ভরযোগ্য পেনাল্টি শুটার, কৌশল এবং দুর্বলতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেনের সর্বশেষ দুটি টাইব্রেকার হয়েছে ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগে। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা নেদারল্যান্ডসকে হারালেও ফাইনালে পর্তুগালের কাছে শিরোপা হাতছাড়া করে।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-৩ সমতার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্পেনের হয়ে সফলভাবে পেনাল্টি নেন মিকেল মেরিনো, ফেরান তোরেস, আলেইক্স গার্সিয়া, আলেক্স বায়েনা এবং পেদ্রি। একমাত্র ব্যর্থ হন লামিন ইয়ামাল। অন্যদিকে গোলরক্ষক উনাই সিমন আবারও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। তিনি ডনিয়েল মালেনের গুরুত্বপূর্ণ শটটি ঠেকিয়ে দেন, এরপর পেদ্রির সফল শটে জয় নিশ্চিত করে স্পেন।
এই টাইব্রেকারে স্পেনের পেনাল্টি নেওয়ার ধরনে একটি বিষয় স্পষ্ট ছিল- কম রান-আপ নিয়ে নিচু ও নিখুঁত শট, যেখানে পাওয়ারের চেয়ে নির্ভুলতাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
তিন মাস পর নেশনস লিগের ফাইনালেও টাইব্রেকারে যেতে হয় স্পেনকে। এবার মিকেল মেরিনো, আলেক্স বায়েনা ও ইস্কো গোল করলেও আলভারো মোরাতার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। সেই ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত স্পেনের ৫-৩ ব্যবধানে পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বর্তমান স্প্যানিশ দলে ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী যাদের পেনাল্টি সফলতার হার সবচেয়ে বেশি, তারা হলেন—
মিকেল ওইয়ারসাবাল
বোরহা ইগলেসিয়াস
আলেখান্দ্রো গ্রিমালদো
দানি ওলমো
পেদ্রো পোরো
মিকেল মেরিনো
লামিন ইয়ামাল
এছাড়া রদ্রি, পেদ্রি, নিকো উইলিয়ামস ও ফেরান তোরেসও নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হন।
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ: টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র
পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে কেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজকে বিশ্বের অন্যতম সেরা পেনাল্টি বিশেষজ্ঞ বলা হয়। বিশ্লেষণ করা ৬৫টি পেনাল্টির মধ্যে তিনি ৬৩ শতাংশ ক্ষেত্রে গোল হজম করেছেন, ২৯ শতাংশ শট সেভ করেছেন এবং ৮ শতাংশ শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের পেনাল্টি ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা দাঁড়ায় মোট ৩৭ শতাংশ।
টাইব্রেকারে তার পারফরম্যান্স আরও দুর্দান্ত। সেখানে ২৩টি পেনাল্টির মধ্যে মাত্র ৫২ শতাংশ থেকে গোল হয়েছে, ৪৩ শতাংশ শট তিনি সেভ করেছেন এবং ৪ শতাংশ শট বাইরে গেছে।
মার্তিনেজের অন্যতম বড় শক্তি হলো প্রতিপক্ষের শট নেওয়ার প্রবণতা পড়তে পারা। ডান পায়ের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে তিনি প্রায়ই নিজের বাঁ দিকে ঝাঁপ দেন, কারণ ওই শ্রেণির ৫১ শতাংশ শট সেদিকেই যায়। অন্যদিকে বাঁ পায়ের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে তিনি নিজের ডান দিককে অগ্রাধিকার দেন, যেখানে ৭৫ শতাংশ শট লক্ষ্য করা হয়েছে।












