আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে ২০৫টি ম্যাচ খেলে ফেললেও বিস্ময়ের ব্যাপার, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনোই মাঠে নামেননি লিওনেল মেসি। সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে রাতেই। বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আটলান্টায় চলমান বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যে ম্যাচে জয় পেলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার সুযোগ পাবেন মেসি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল ২০০৫ সালের নভেম্বরে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। মজার বিষয় হলো, সেই বছরই মাত্র ১৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল মেসির।
এখন ৩৯ বছর বয়সেও মেসি বিশ্বের যেকোনো পরাশক্তির জন্য বড় হুমকি। চলতি বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্সই তার প্রমাণ, ৮টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার শিরোপা রক্ষার মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। তাই ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়–মেসিকে কীভাবে থামাবে ইংলিশরা?
ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল এ নিয়ে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রসিকতা করে বলেন, ‘আমি ভাবছিলাম… হ্যাঁ, আমরা হয়তো পুরনো দিনের মতো একজনকে শুধু মেসিকে মার্ক করার দায়িত্ব দেব! (হাসি)’
তবে তিনি স্বীকার করেন, বিষয়টি সত্যিই তাদের ভাবনায় এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত সেটা করব কি না, নিশ্চিত নই। তবে বিষয়টি আমাদের মাথায় এসেছে।’
টুখেল বলেন, তার বিশ্লেষক দল মেসিকে নিয়ে বিস্তারিত কাজ করেছে। কিন্তু এতেও তাকে সহজে থামানো সম্ভব নয়। টুখেলের ভাষায়, ‘সবাই জানে, মেসি মাঠের কোন এলাকায় বল পেতে চায়। ম্যাচ বিশ্লেষণ করলে বিষয়গুলো দ্রুত বোঝা যায়। বল যখন তার কাছে আসে, তখনই সে ফাঁকা জায়গা খুঁজে বের করে। আমরা তার খেলায় কিছু নির্দিষ্ট ধরণ (প্যাটার্ন) শনাক্ত করেছি। কিন্তু একটি পথ বন্ধ করে দিলেই তারা নতুন পথ বের করে ফেলে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলা সত্যিই ভিন্ন অভিজ্ঞতা।’
টুখেল আরও বলেন, ‘মেসি যেভাবে এই দলকে নেতৃত্ব দেয়, তা অবিশ্বাস্য। এটি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি কে যে এ নিয়ে মন্তব্য করব? এমন কীর্তির বর্ণনা দেওয়ার মতো শব্দ আমার কাছে নেই। সে শুধু নেতা নয়, যে দলেই খেলুক না কেন, সেই দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।’
মেসির প্রভাব সম্পর্কে জার্মান এই কোচ বলেন, ‘মেসির পায়ে বল গেলেই পুরো দলের চলাচল শুরু হয়ে যায়। তাকে বল পৌঁছে দেওয়ার যে কারিগরি দক্ষতা, সেটি সর্বোচ্চ মানের। তাই অনেক বিষয়েই সতর্ক থাকতে হবে। তবে আমরা আমাদের নিজস্ব ফুটবল খেলতে চাই এবং নিজেদের খেলার ধরনই চাপিয়ে দিতে চাই। চ্যালেঞ্জটা কতটা কঠিন, সেটা আমরা জানি। কিন্তু আমরা প্রস্তুত।’
ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার ও বর্তমানে টিভি বিশ্লেষক জেমি ক্যারাঘারও মেসিকে থামানোর একটি কৌশলের কথা বলেছেন। স্কাই স্পোর্টসে তিনি টুখেলকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘আর্জেন্টিনা রক্ষণে নামলে কার্যত নয়জন আউটফিল্ড খেলোয়াড় নিয়ে ডিফেন্ড করে, ইংল্যান্ড সেটার সুবিধা নিতে পারে।’
এর ব্যাখ্যাও দেন তিনি, ‘প্রতিপক্ষের দখলে বল থাকলে মেসি খুব বেশি নড়াচড়া করে না। তাই ইংল্যান্ডের বাম-ব্যাকের পুরো ম্যাচজুড়ে তার সঙ্গেই লেগে থাকার দরকার নেই।’
তবে ক্যারাঘার স্পষ্ট করে দেন, এটি মেসির সমালোচনা নয়। বরং তিনি বলেন, ‘মেসিকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। টানা ২০ বছর ধরে তিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলছেন, অথচ কেউ তার সমাধান খুঁজে পায়নি। কিন্তু তারপরও একটি পরিকল্পনা থাকা জরুরি। আমি মনে করি না, সমাধান শুধু ম্যান-মার্কিং। তবে একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা অবশ্যই থাকতে হবে। খেলোয়াড়রাও সেটাই আশা করে। এতে আত্মসমর্পণের কিছু নেই। কারণ আপনি সম্ভবত সর্বকালের সেরা ফুটবলারের বিপক্ষে খেলতে নামছেন। আর এই বিশ্বকাপেও তিনি সেটা আবার প্রমাণ করেছেন।’












