কুমিল্লাশুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ওমানে মৃত্যুর ১৪ দিন পর কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন নীলফামারীর প্রবাসী

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ৩, ২০২৬ ৭:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ১০ বছর আগে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন নীলফামারীর মো. হাজিরুল ইসলাম (৪০)। কিন্তু জীবিকার সন্ধানে যাওয়া সেই প্রবাসী শেষ পর্যন্ত কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন জন্মভূমিতে। মৃত্যুর ১৪ দিন পর তার মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।

হাজিরুল ইসলাম নীলফামারী সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ী শাহপাড়া গ্রামের মৃত আমিজ উদ্দিনের ছেলে।

বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্ত্রী লাভলি বেগম, দুই মেয়ে ও একমাত্র ছেলে আব্দুল কাদের জিলানীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্বজনদের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়।

পরিবার ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে জমিজমা বিক্রি করে ওমানে যান হাজিরুল ইসলাম। সেখানে একটি খেজুর বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

গত ১৪ মে প্রতিদিনের মতো কাজে গিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রায় ১০ মিটার উঁচু খেজুর গাছে উঠে কাজ করার সময় পা ফসকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে তার মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ওমানের রুস্তাক হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২০ জুন তিনি মারা যান।

সহকর্মী মসিয়ার রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।’

নিহতের ভাতিজা মো. রাব্বানী ইসলাম জানান, মরদেহ দেশে আনার কথা ছিল ৩০ জুন। তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগায় আরও দুই দিন বিলম্ব হয়।

শুক্রবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে হাজিরুল ইসলামকে দাফন করা হয়। এ সময় আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তারা।