ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ত্রিচক্রযান বা থ্রি-হুইলার আটক করাকে কেন্দ্র করে হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করার এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটেছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্ঘটনা এড়ানোর অংশ হিসেবে নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে হাইওয়ে পুলিশ একটি অবৈধ থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার যান আটক করলে স্থানীয় চালক ও শ্রমিকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে এই তাণ্ডব চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে অবাধে চলাচল করছিল বেশ কিছু থ্রি-হুইলার।
মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে একটি থ্রি-হুইলার জব্দ করে তাদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করে। এই ঘটনার পরপরই মহাসড়কের পাশে থাকা অবৈধ থ্রি-হুইলারের চালক, হেলপার এবং স্থানীয় কিছু উশৃঙ্খল শ্রমিক সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং কর্তব্যকাজে বাধা সৃষ্টি করে।
একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিক ও চালকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে এবং মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাইওয়ে পুলিশের একটি টহল গাড়ি বা পিকআপ ভ্যানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ইটের আঘাতে পুলিশের গাড়িটির সামনের এবং পাশের কাঁচ পুরোপুরি ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। এই আকস্মিক হামলায় ঘটনাস্থলে থাকা হাইওয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্য ইটের আঘাতে কমবেশি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মহাসড়কে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের এই ঘটনার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওই অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছুটে যান।
পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স লাঠিচার্জ করে উত্তেজিত থ্রি-হুইলার চালক ও শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি আদেশ অনুযায়ী দেশের প্রধান প্রধান মহাসড়কে থ্রি-হুইলার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং সব ধরনের ধীরগতির তিন চাকার যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা মহাসড়কে গাড়ি চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই আজ গাড়িটি আটক করা হয়েছিল। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এই অপরাধের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল এবং আশেপাশের সিসিটিভি বা ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে হামলাকারী ও উশৃঙ্খল থ্রি-হুইলার চালকদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এই ঘটনার পর মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা, কর্তব্যকাজে বাধা প্রদান এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন করার অপরাধে স্থানীয় থানায় সংশ্লিষ্ট থ্রি-হুইলার চালক ও উশৃঙ্খল শ্রমিকদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর থেকে জড়িত চালক ও শ্রমিকেরা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিলেও তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল চিরুনি অভিযান শুরু করেছে বলে হাইওয়ে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। মহাসড়কের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের অবৈধ যানের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।












