বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে সামনে রেখে অভিন্ন কৌশল নির্ধারণে প্যারিসে জি-৭ ভুক্ত শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের দুই দিনের বৈঠক শুরু হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) শুরু হওয়া এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করছে ফ্রান্স।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য বিরোধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক নীতির ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে টানাপোড়েন বেড়েছে, যা জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করেছে।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হলো চীনের বিরল খনিজের ওপর নির্ভরতা কমানো। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের বিকাশে এসব খনিজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিকল্প উৎস খোঁজার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ফরাসি অর্থমন্ত্রী রোলান্ড লেস্কুর জানান, বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান ধারা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি, ইউরোপে উদ্ভাবনের ঘাটতি এবং চীনের ভোক্তা চাহিদা হ্রাস ও অতিরিক্ত উৎপাদন—এসব বিষয় অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, বহুপাক্ষিক সহযোগিতার সুযোগ থাকলেও সব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সহজ নয়, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও মতভেদ রয়ে গেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। এতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জার্মান অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবাইল বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে জি-৭ একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। তিনি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দুই দিনের বৈঠক শেষে মঙ্গলবার চূড়ান্ত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হবে।












