ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আবারও বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার বড় একটি অংশ—প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল—এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। গড়ে দুই কোটির বেশি ব্যারেল তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ নিয়মিত এই রুট ব্যবহার করে।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো—সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—তাদের অধিকাংশ জ্বালানি রপ্তানির জন্য এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি কাতারের গ্যাস রপ্তানিও প্রায় পুরোপুরি এই পথেই সম্পন্ন হয়।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হরমুজের আশপাশে শতাধিক জাহাজ নোঙর করে থাকায় সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং কিছু দেশে শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে বিকল্প পথে জাহাজ চলাচল শুরু হলেও এতে ব্যয় বাড়ছে, যা বিশ্ববাজারে পণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও হরমুজ প্রণালির কার্যকর বিকল্প এখনো গড়ে ওঠেনি। ফলে এই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।












