ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ইউরেনিয়ামের কাছে যাওয়ার যে কোনো প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক উপাদানসমূহ যুক্তরাষ্ট্রের নিবিড় নজরদারিতে রয়েছে। তার ভাষায়, কেউ সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ইউরেনিয়াম ইস্যুটি অন্যতম প্রধান বিতর্কে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান যেন তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেয় এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করে। তবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেহরান জানিয়েছে, নিজস্ব কর্মসূচি থেকে তারা সরে আসবে না।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ২০২৫ সালে মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর ধ্বংসাবশেষের নিচে এখনো ইউরেনিয়াম মজুত থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, দেশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তাদের সার্বভৌম সম্পদের অংশ, যা কোনো অবস্থাতেই অন্য কোথাও সরানো হবে না।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বর্তমানে ইরানের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা আরও পরিশোধন করা হলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেই সমঝোতা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে, ফলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।












