দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপগামী ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের একটি প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ছয়জনের শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া গেছে, যার মধ্যে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হান্টাভাইরাসের একটি বিশেষ ধরন ‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’ মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তির লালার মাধ্যমে ভাইরাসটি সংক্রমিত হতে পারে। ফলে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ, যেমন চুম্বন, একই পাত্রে পানীয় গ্রহণ কিংবা কাছাকাছি অবস্থানে কাশি-হাঁচির মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা জাহাজটিতে থাকা দুই ডাচ পর্যটক ইঁদুরের মাধ্যমে প্রথম সংক্রমিত হন এবং পরবর্তীতে অন্যদের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। জাহাজটিতে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন মাঝপথে বিভিন্ন স্থানে নেমে যান। তাদের শনাক্তে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের আতঙ্কের কারণ নেই। সংস্থার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ ছাড়া সহজে ছড়ায় না এবং এটি কোভিড-১৯ বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো দ্রুত সংক্রমণশীল নয়।
এদিকে জাহাজে থাকা যাত্রীদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত পরিসরের এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিলে দ্রুত সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব।












