শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর পানপট্টি এলাকার ওই কর্মকর্তার ভাড়া বাসায় গিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এসময় এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি তিনি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিত অবহিত করেছেন। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করায় তিনি র্যাব সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, নিহতের স্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তার আবেদন করেছেন। ইতোমধ্যে সরকার থেকে নির্দেশ এসেছে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বুলেট বৈরাগীর বেতন তার স্ত্রীকে প্রদান করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী কুমিল্লায় তাদের স্থায়ী নিবাসের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য নিহতের স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার বিষয়েও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
নিরাপত্তা বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনি পরিবারের সদস্যদের কুমিল্লার বাসাতেই অবস্থান করার অনুরোধ জানান এবং যেকোনো প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এসময় স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও পরিবারের আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন বুলেট বৈরাগী। রাত ২টা ২৫ মিনিটে পরিবারের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা বলে জানান তিনি টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার ফোন বন্ধ পান।
পরদিন সকালে তার বাবা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি আইরিশ হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত বুলেট বৈরাগী কুমিল্লা কাস্টমস অফিসে কর্মরত ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন। পরিবারে স্ত্রী, বাবা-মা ও এক বছর বয়সী সন্তান রয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে এবং তাদের কারাগারে পাঠানো হয়














