কুমিল্লাসোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে বড় অগ্রগতি, হিশামের বাসার রক্তে ডিএনএ মিল!

প্রতিবেদক
Cumilla Press
এপ্রিল ২৭, ২০২৬ ১:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। সন্দেহভাজন হিশামের বাসা থেকে উদ্ধার করা রক্তের নমুনার সঙ্গে বৃষ্টির ডিএনএ মিলেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গেল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচে জামিল আহমেদ লিমনের দেহাবশেষ উদ্ধার হলেও হদিস মেলেনি নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বৃষ্টির সন্ধানে বন জঙ্গল ও জলরাশি চষে বেড়াচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। বৃষ্টির মরদেহ পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

নাহিদা বৃষ্টির ভাই মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর সহযোগী ডব্লিউটিএসপি-কে জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা পরিবারকে ফোনে বলেছেন হিশামের বাসাতে পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে তার বোনের ডিএনএ’র মিল পেয়েছে। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন হিশাম।

এদিকে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

খুনের নেপথ্যে হিশামের ব্যক্তিগত আক্রোশ নাকি অন্য কোনো মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে, খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। নৃশংস এ ঘটনায় গ্রেফতার হিশামের বিরুদ্ধে দুটি ‘ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার’ বা পরিকল্পিত খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক প্রহার, অন্যায়ভাবে আটক রাখা, তথ্যপ্রমাণ নষ্টের চেষ্টা, মৃত্যুর তথ্য গোপনের উদ্দেশ্যে পুলিশকে তথ্য না জানানো এবং বে-আইনিভাবে মৃতদেহ সরানোর ছয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের আইনে, এই পৈশাচিক অপরাধের শাস্তি হতে পারে বিষাক্ত ইঞ্জেকশনে মৃত্যুদণ্ড অথবা আমৃত্যু কারাবাস। শনিবার ট্যাম্পার আদালতের নথিতে অভিযুক্ত হাশিমের পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম উল্লেখ ছিল না। এ ঘটনায় ২৮ এপ্রিল শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।


এদিকে জামিল ও বৃষ্টির হত্যাকারীর সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিতসহ তাদের মরদেহ পেতে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মায়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল সেহেলী সাবরীন জানিয়েছেন, জামিলের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডির শিক্ষার্থী। জামিল ইউএসএফের ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডির শিক্ষার্থী। আর নাহিদা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারং এর শিক্ষার্থী। তাদের দুজনকে সবশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছিল।

.