নেত্রকোনার শতাধিক বছরের পুরনো তেলিগাতী বাজারে চুরি ও মাদকের ভয়াবহতার প্রতিকার না পেয়ে প্রতিবাদ হিসেবে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটে যায়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তা প্রত্যাহার করে নেন ব্যবসায়ীরা।
জেলার আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী বাজারে গত বুধবার রাতে একাধারে তিন দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে ব্যবসায়ীরা জরুরি সভা ডেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্মঘট ডাকেন।
পরবর্তীতে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোর থেকে বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। পুরো বাজারে বনিক সমিতির ৭০০ ব্যবসায়ীই এই প্রতিবাদে অংশ নেন। ফলে সাপ্তাহিক বাজারের দিনেও সব দোকানপাট এমনকি পাইকারি ব্যবসা বাণিজ্যও বন্ধ থাকে। এরপর স্থানীয় প্রশাসন গিয়ে চুরি ও মাদক নির্মূলে ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিলে বিকাল থেকে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন।
এদিকে একদিনেই ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার ওপরে ক্ষতির মুখে পড়েন। তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বাজারে মাদকের ভয়াবহতার কারণে এসব চুরির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা এই কর্মসূচি নিয়েছিলেন বলে জানান ব্যবসায়ী নেতা ও দোকানিসহ স্থানীয়রা।
তবে এবার প্রশাসনের আশ্বাসে প্রতিবাদ কর্মসূচি এবার প্রত্যাহার করলেও ভবিষ্যতে কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে আবারও কঠোর আন্দোলনে যাবেন বলে হুঁশিয়ার দেন তারা
বাজারটি মূলত জেলার তিনটি উপজেলাকে প্রতিনিধিত্ব করে। এছাড়া নেত্রকোনাসহ ময়মনসিংহ পর্যন্ত এই বাজারের বেচাকেনা চলে।
বাজারের বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ‘গরুর বাজারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন হয়েছে। অথচ এ পুরনো বাজারে কোটি টাকার বাণিজ্য, আমরা বারবার বলেও নিরাপত্তা পাচ্ছি না। মাদকের ভয়াবহতায় বিশৃঙ্খল হচ্ছে। এগুলো নিয়ে কোনো কারো কোনো ভাবনা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এক রাতে তিন দোকানে চুরি হয়েছে। কোটি টাকার ডাক হয় বাজারটি কিন্তু প্রশাসনের নজর নেই। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে এই প্রতিবাদী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলাম। এখন প্রশাসন এসে আশ্বস্ত করায় আপাতত আমরা এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি।’












