কুমিল্লারবিবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চিরকুটে শিক্ষক ও সহপাঠীর নাম, কী লিখেছেন মুনিরা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর উত্তর বাড্ডার নিজ বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত শিক্ষার্থীর নাম মুনিরা মাহজাবিন মিমো (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ)। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর পুলিশ একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যেখানে বিভাগের একজন শিক্ষক ও একজন সহপাঠীর নাম উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী ও সহপাঠীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। 

বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মিমোর মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। রাজধানীর বাড্ডায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন মিমো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নিজের বাসায় আত্মহত্যা করেছেন এবং একটি চিরকুটে তিনি একজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা সকালে বিষয়টি জানতে পারি, এরপর বিভাগের শিক্ষকরা তার বাসায় যাই। পরে তার মোবাইল ফোনের কিছু তথ্য বিশ্লেষণ করে একজন শিক্ষকের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতেই পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকেও নেয়া হয়েছে।

সিগমা বলেন, ‘আমরা শুনতে পেয়েছি, একটা সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সেখানে লেখা ছিল— সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দেওয়া হোক। আরেকজন সহপাঠীর নামও ছিল সেখানে। তোমরা দুইজন ভালো থেক।’

গুলশান জোনের (বাড্ডা) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জুয়েল জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া কিছু আলামতের ভিত্তিতে বিভাগের একজন শিক্ষককে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। একই ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

এদিকে, মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ। বিভাগের দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আমাদের বিভাগের এমএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের মেধাবী শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে আমাদের সকলকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়ে চলে গেছেন। অনেক উৎফুল্ল আর বলিষ্ঠ স্বভাবের মাহজাবিন এমন সিদ্ধান্ত নিবে, আমরা কেউ বিশ্বাস করতে পারছি না। এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। বিভাগের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ শোকে আচ্ছন্ন। আমরা চাই, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।

‘আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। আশা করি, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সবাই মিলে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সক্ষম হবো।’