আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত হয়েছে মাদারীপুরের তরুণী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির পরিবার।
অপরদিকে তার সহপাঠী জামিল আহম্মেদ লিমনের মরদেহের অংশবিশেষ উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে সন্দেহভাজন মার্কিন নাগরিক রুমমেটকে। হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা।
স্বজনরা জানায়, ৭ মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। এরপর উচ্চতর ডিগ্রির জন্য পাড়ি জমান আমেরিকায়। কিন্তু ড্রিগ্রি অর্জনের আগেই বিদায় নিল ২৩ বছর বয়সী তরুণী। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার সুবাধে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে সহপাঠী জামিল আহম্মেদ লিমনের সঙ্গে। সেখানে লিমনের সঙ্গে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেটের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর ৮ দিন পর শুক্রবার লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে আমেরিকার পুলিশ।
একদিন পর শনিবার ঘটনাস্থল পাওয়া রক্তের ডিএনএ পরীক্ষার শেষে বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি জানতে পেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন নিহত বৃষ্টির ভাই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হাসান প্রান্ত। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হিশাম নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক আটক করেছে দেশটির পুলিশ। এ খবরে নিহতের গ্রামের বাড়ি ভিড় করছেন পাড়াপ্রতিবেশী।
বৃষ্টির চাচাতো বোন তুলি আকন বলেন, ‘বিদেশে পড়ালেখা করতে গিয়ে এমনভাবে আমার বোন খুন হবে তা মেনে নিতে পারছি না। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠিন বিচার চাই। আমেরিকার সরকার তা যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করে।’
নিহত বৃষ্টির চাচা দানিয়াল আকন বলেন, ‘বৃষ্টি অনেক মেধাবী ছিল। সে বেঁচে থাকলে হয়তো দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারতো। আমরা এই শোক কি করে মেনে নেব?’
এদিকে নিহতের পরিবারের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে, মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, বিদেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ থেকে তেমন কিছুই করা যায় না। তবে নিহতের পরিবার চাইলে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করে নিহতের পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করবে পুলিশ।
জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোঁয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামে জহির উদ্দিন আকন্দের একমাত্র মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। তার বাবা একটি এনজিওতে চাকুরির সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মিরপুর সাড়ে ১১ পল্লবীতে বসবাস করেন।














