শরীয়তপুরে রোগী বহন করা অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা যাওয়ার পথে দুই স্থানে আটকে রাখার কারণে চিকিৎসা না পেয়ে জমশেদ আলী ঢালী নামের এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদরের পালং মডেল থানায় মামলাটি করেন মৃত জমশেদের নাতি জুবায়ের হোসেন রুমান ঢালী। এ ঘটনায় মামলার আসামি সুমন খানকে শরীয়তপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খান (৩৮), চালক সজিব (২৮), পারভেজ (২৬) ও হান্নান (২৫)।
এর আগে বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সদস্যের সঙ্গে সভা করেন জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন। রোগীর অ্যাম্বুলেন্স আটক, বাড়তি ভাড়াসহ অন্যায় কাজ আর করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে যায় অ্যাম্বুলেন্স মালিক পক্ষ।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানান, অ্যাম্বুলেন্স মালিক পক্ষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। তারা লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভবিষ্যতে এ ধরনের অন্যায় কর্মকাণ্ড আর করবে না। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্সগুলোর কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ ইন্সপেক্টরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রতিদিন কতটি অ্যাম্বুলেন্স রোগী পরিবহন করছে তার হিসাব জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেবেন। পুরো বিষয়টি নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় রাখা হবে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক।
পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, রোগী বহন করা অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা যাওয়ার পথে আটকে রাখার কারণে চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত।
প্রসঙ্গত, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন সত্তোরোর্ধ জমশেদ ঢালী। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকায় রেফার্ড করেন। স্বজনরা হাসপাতাল চত্বরে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ৬ হাজার ৫০০ টাকায় ভাড়া চুক্তি করলেও, রোগী তোলার পর শুরু হয় অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ। বাড়তি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বজনরা বাধ্য হয়ে ৫ হাজার টাকায় বাইরে থেকে অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হাসপাতাল কেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা যাওয়ার পথে অন্তত দুই স্থানে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি জোরপূর্বক আটকানো হয়। সিন্ডিকেট সদস্য মানিক, সুমন, পারভেজ, সজিবসহ ৭–৮ জন এই বাধা দেন বলে স্বজন ও চালকের অভিযোগ। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়, আর সেই বিলম্বই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নেয় জমশেদ ঢালীর প্রাণ। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সড়কে তার মৃত্যু হয়।
শরীয়তপুরে মাত্র চার মাসের ব্যবধানে জমশেদ ঢালীর প্রাণ কেড়ে নিলো হাসপাতাল কেন্দ্রিক অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের নৈরাজ্য। গত বছরের ১৪ আগস্ট একই সিন্ডিকেটের বাধায় প্রায় ৪০ মিনিট সড়কে আটকে থেকে প্রাণ হারায় এক নবজাতক। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর আলোচনা সমালোচনার মুখে কিছুদিন বন্ধ থাকে সিন্ডিকেট চক্রের তৎপরতা। সময়ের ব্যবধানে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে এই চক্র।












