কুমিল্লাশুক্রবার, ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুবিতে বাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনা,  ঘটনার আদ্যোপান্ত

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ৪, ২০২৫ ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!


কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সিএসই বিভাগের ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে নতুন ক্যাম্পাস পরিদর্শনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস অপর্যাপ্তত থাকলেও পরিবহন প্রশাসনের নতুন শিক্ষার্থীদের ট্যুরের জন্য বাস দেওয়া অন্যায়। এছাড়াও উপাচার্যের মেয়ে ঐ বিভাগে পড়েন বিধায় ক্ষমতাবলে বাস সুবিধা পেয়েছেন বলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা লিখেন।

খোজ নিয়ে জানা যায়, সিএসই বিভাগ তাদের অরিয়েন্টেশন উইকের পালনের জন্য ৩ জুলাই নতুন ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার পরিবহন পুল থেকে তারা ১ জুলাই চাহিদাপত্র দিয়ে ফ্রি শিডিউলে সকাল ১১টা থেকে অল্প সময়ের জন্য শিক্ষার্থীদের বাসের জন্য আবেদন করা হয়। শিক্ষার্থীদের অন্য লোকাল পরিবহনে যাতায়াতে নিরাপত্তার শংকা থাকে বলে তারা এই ব্যবস্থা নেন। ফলে পরিবহন পুল স্বল্প সময়ে ছেড়ে দিব শর্তে বিভাগকে একটি বাস ব্যবহারের সুযোগ দেয়। 

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।  গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ফরহাদ কাউসার ফেসবুকে লিখেন, ‘সিএসই-১৯ ব্যাচ বাসে করে নতুন ক্যাম্পাস ট্যুর দিয়েছে। এই হ্যাডম কইত্তে আইলো? ওহ আচ্ছা উপাচার্য মহোদয়ের মেয়ে নাকি এই ব্যাচে ভর্তি হইসে! স্পেশালিটি তো থাকবেই…। কিন্তু কথা হচ্ছে নিউজ করা শুরু হইলে মহোদয়ের চেয়ার নিয়ে যেনো টান না পড়ে…’

অর্থনীতি বিভাগের ১৭ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মামুন বলেন, ‘শহর থেকে ভার্সিটির দূরত্ব অনেক। বাস সংকটের কারণে সেই পথটা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আসতে হয়। যারা নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করেন তারা জানেন কি পরিমাণ কষ্ট হয়।’

এ বিষয়ে পরিবহন পুল জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী  বিভাগীয় প্রধান কর্তৃক স্বাক্ষরিত চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত সিডিউল চালনায় ব্যাঘাত না হলে ক্যাম্পাসের কাছাকাছি (শহর পর্যন্ত) পরিবহন পুল হতে গাড়ি প্রদান করা হয়ে থাকে। এর বাহিরে বা দুরত্বে হলে রেজিস্ট্রার মহোদয়ের অনুমতি সাপেক্ষে গাড়ি প্রদান করা হয়। সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের স্বাক্ষরিত চাহিদা কাছাকাছি দুরত্বে হওয়ায় পরিবহন পুল হতে স্বাভাবিক নিয়মে গাড়ি প্রদান করা হয়েছে বিধায় রেজিস্ট্রার মহোদয় বা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গাড়ি বরাদ্দের বিষয়টি অবগত করা প্রয়োজন হয়নি।

পরিবহন পুলের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মোসারফ হোসেন ভুইয়া বলেন, ‘সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান আমাকে রেজ্যুলিউশন লেটার পাঠিয়েছে, তখন আমি বাসের অনুমোদন দেই। কুমিল্লা অঞ্চলের মধ্যে যদি বাসের শিডিউল থাকে তাহলে আমরা বাস দিয়ে থাকি।’

এছাড়াও শিক্ষার্থীরা নতুন ক্যাম্পাসে যাওয়া নিষিদ্ধ হলেও কিভাবে পরিবহন নিয়ে সেখানে ঘুরতে যায় এসব নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। 

এ বিষয়ে ফার্মেসী বিভাগের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নাঈম হোসেন বলেন, ‘শুনলাম আমাদের মহোদয়ের সুযোগ্য কন্যা নাকি উক্ত বিভাগে এবং উক্ত ব্যাচে ভর্তি হয়েছেন। এইদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভিতরে প্রবেশ করারই অনুমোদন নাই।  আর মহোদয়ের কন্যা বাস নিয়ে প্রবেশ বাহ।  মহোদয় বাহ।’

বাংলা বিভাগের ১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘নতুন ক্যাম্পাস হলো রেস্ট্রিকটেড এরেনা। সেখানে কীভাবে বাস নিয়ে প্রবেশ করা হয়? আর নতুন ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের জন্য রেসট্রিকটেডই বা থাকবে কেন?’

সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমি কালকে জানতাম না, আজকে আমি খবর নিয়েছি ভিসি স্যারের মেয়ে যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোন বিভাগ নতুন ক্যাম্পাসে যেতে চেয়েছে কিনা জানি না। তারা চেয়েছে কিন্তু পায়নি, এমন হলে হয়তো বুঝতাম প্রশাসন আমাদেরকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে।” 

সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমি কালকে জানতাম না, আজকে আমি খবর নিয়েছি ভিসি স্যারের মেয়ে যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোন বিভাগ নতুন ক্যাম্পাসে যেতে চেয়েছে কিনা জানি না। তারা চেয়েছে কিন্তু পায়নি, এমন হলে হয়তো বুঝতাম প্রশাসন আমাদেরকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে।” 

তিনি আরও বলেন, “আমরা একাডেমিক আলোচনার মাধ্যমে উইকটায় শিক্ষার্থীরা যেন র‍্যাগিং থেকে দূরে থাকে, সে উদ্দেশ্যে শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করে ভালো একটা উদ্যোগ নিয়েছি। সেটি প্রশংসিত হওয়ার পরিবর্তে এখন বিতর্ক হচ্ছে, যা আশ্চর্যের।”

ঘুরে দেখানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষকরা নিয়ে গেছেন। তিনজন শিক্ষককে আমি দায়িত্ব দিয়েছি, ছাত্র উপদেষ্টাসহ তাঁদের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গেছেন। উদ্দেশ্য ছিলো ক্যাম্পাস ঘুরে দেখানো। তবে, আমরা পরিদর্শন করতে পারিনি। পরিবহন পুল অনুমতি দিয়েছে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য। এখানে আমাদের বিভাগ কী অন্যায় করেছে, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়।”

তবে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, ‘কোনো বিভাগকে বাস দেয়ার ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। তবে ট্যুরে যাওয়ার জন্য কোনো বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে এভাবে বাস দেয়া যায় না।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী বলেন,  বাস নিয়ে ঘুরতে যাওয়া সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।”

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ” আমার মেয়ে এই দিন অন্য শিক্ষার্থীদের সাথে কোথাও যায়নি।”