কুমিল্লায় গত ২২ই আগষ্ট ভারত থেকে আসা উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতি নদীর পানি বেড়ে বুড়িচং উপজেলার ১৬ নং ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া গ্রাম দিয়ে বাঁধ ভেঙ্গে বুড়িচং, আদর্শ সদর, ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বারসহ চারটি উপজেলার প্রায় আড়াই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে চারটি উপজেলায় তার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধি হয়।
কয়েকদিন পর বন্যা কবলিত এলাকায় পানি নামতে শুরু করলে বন্যা দুর্গতদের মাঝে দেখা দেয় পানি বাহিত নানান রোগ। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের মাঝে ডায়রিয়া নিউমোনিয়া জ্বর সর্দি কাশিসহ শ্বাসকষ্ট রোগ দেখা দেয়।
কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকায় ইতিমধ্যেই বহু মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করেছেন। তাদের জন্য একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছানের উদ্যোগ নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতাল।
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে উপজেলার ফতেহাবাদ মোকাম বাড়ি ঈদগাহ মাঠে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতাল ও ফতেহাবাদ ঐক্য ফোরামের যৌথ উদ্যোগে ৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার নারী-পুরুষ ও শিশুদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। এই সময় চিকিৎসকসহ ১৮ জনের একটি দল এই মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করেন।
এমসিজিএইচ এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফজাল বারী’র পরিচালনায় ওই মেডিকেল ক্যাম্পে ছিলেন ডা. এএসএম আসাদুজ্জামান সোহাগ, ড. নাহিদ হাসান, ডা. হাসিবুল ইসলাম, ড. আনিকা ইসলাম, ড. আবু নাহিম, ওয়ার্ড মাস্টার মোঃ রফিকুল ইসলাম, সিনিয়ার নার্স রাবিয়া আক্তার, রহিমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, নিগার সুলতানা, পলি আক্তার, ফারজানা আহম্মেদ প্রমুখ।
মেডিকেল ক্যাম্পের একাধিক চিকিৎসক জানান, বন্যাদুর্গত এলাকা হিসেবে বেশিরভাগই পানিবাহিত ও চর্মরোগী বেশি আসছে। এদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক লোকজনের সংখ্যাই বেশি। এছাড়া অন্য রোগে আক্রান্তদেরও চিকিৎসা ও ঔষুধ দেয়া হচ্ছে।
এমসিজিএইচ এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফজাল বারী বলেন, আজকে আমরা এই ক্যাম্পে প্রায় ১২শ রোগীকে চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ দিয়েছি। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আমাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করি।












