সৌদি আরবে সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই পাঁচজন একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন। এছাড়া তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী, সদর দপ্তর ও যানবাহনে গুলি চালিয়েছিলেন।
তদন্তে তাদের কাছে অবৈধ অস্ত্র ও তাজা গুলি রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের ভেতরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো ও তাতে অর্থায়নে সহায়তার অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, আদালতের বিচারিক রায়ের ভিত্তিতে এই পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
এর আগে মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের ‘পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর ও সিতি আক্তার।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ লিপ্ত থাকার অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আনা হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, সময় ও স্থানের পবিত্রতা বিবেচনায় নিয়ে এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কার্যকর করা হয়।
তবে কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পবিত্র স্থান ও মসজিদগুলোর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়নে সৌদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পবিত্র স্থানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা বা সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।












