কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুদ্ধের প্রভাবেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি, বাজারে ভোগান্তি ও মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ৩:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত সত্ত্বেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে সরকার। একই সঙ্গে বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি এবং সীমিত সক্ষমতায় ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিচালনার মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশের জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে এবং আগামী দুই মাসের চাহিদা মেটানোর মতো মজুত রয়েছে।

তবে বাস্তবে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। কোথাও কোথাও পাম্প বন্ধ থাকলেও অধিকাংশ স্থানে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাম্প মালিকরা। অনেক গ্রাহককে একাধিক পাম্প ঘুরে তেল সংগ্রহ করতে হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় মার্চ ও এপ্রিলে নির্ধারিত পরিমাণ ক্রুড অয়েল দেশে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে ইস্টার্ন রিফাইনারি সীমিত গতিতে পরিচালিত হচ্ছে। তবে বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করে ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে।

এদিকে দেশে বর্তমানে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েলের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মজুত রয়েছে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অতিরিক্ত তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার আরও জানায়, জ্বালানি তেল মজুত করে রাখা বা কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ভর্তুকি দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাম্পগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়ের মূল কারণ ‘প্যানিক বায়িং’। সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুত না করার আহ্বান জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলেছে, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।