ফিফা বিশ্বকাপে সেরা গোলরক্ষককে দেওয়া মর্যাদাপূর্ণ ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ ট্রফি নিয়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। মাঠের লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য সব সেভ, স্নায়ুচাপ সামলে দলের দেয়াল হয়ে ওঠা আর টুর্নামেন্টজুড়ে অতিমানবীয় ধারাবাহিকতাই নির্ধারণ করে দেয় কার হাতে উঠছে এই ট্রফি।
তবে রুপালি পর্দার পেছনের গল্পের মতো এই ট্রফিরও রয়েছে একটি চেনা সত্য, দেখতে সোনালি গ্লাভসের মতো হলেও এটি কিন্তু খাঁটি সোনার তৈরি নয়! পিতল কিংবা তামার ওপর সোনালি প্রলেপ দিয়েই গড়া হয় এই স্মারক। তাই এর বাণিজ্যিক মূল্য যৎসামান্য হলেও, ফুটবল ইতিহাসের গৌরব আর আবেগের পাল্লায় এর ওজন অমূল্য।
চলতি আসরে ফ্রান্স ও স্পেনের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালের আগে গোল্ডেন গ্লাভসের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন ফরাসি দুর্গপ্রহরী মাইক মাইনিয়ান। তবে শেষ চারের লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে স্প্যানিশরা বিদায় করতেই পাল্টে গেছে পুরো হিসেব-নিকেশ।
বাজির বাজারে এখন হট ফেভারিট স্পেনের উনাই সিমনের বিপরীতে মাইনিয়ানের সম্ভাবনা খাদের কিনারায়।
আসলেই চলতি বিশ্বকাপে উনাই সিমন যেন এক অভেদ্য প্রাচীর। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত খেলা সাত ম্যাচে মাত্র ১টি গোল হজম করেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার নিজের ষষ্ঠ ‘ক্লিন শিট’ আদায় করে নিয়ে সিমন গড়েছেন বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ ক্লিন শিটের নতুন কীর্তি।
আর তার এই অবিশ্বাস্য ফর্মের ওপর ভর করেই এক বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৬টি ক্লিন শিটের রেকর্ড স্পর্শ করেছে স্পেনও।
কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতার ম্যাচে গোল হজম করার আগে সিমন টানা ৬৪৯ মিনিট জাল অক্ষত রেখেছিলেন, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসেই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় গোল না খাওয়ার এক অনন্য ও অবিশ্বাস্য নজির।
অন্যদিকে, গত ২০২২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন গ্লাভসজয়ী আর্জেন্টিনার ‘বাজপাখি’ এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এবারও আলোচনায় আছেন বটে, তবে পরিসংখ্যানের বিচারে সিমনের চেয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে। এবারের আসরে গ্রুপ পর্ব পেরোনোর পর আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ যেন একটু বেশিই আলগা। রাউন্ড অব ৩২-এ নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে দুটি, রাউন্ড অব ১৬-তে মিশরের বিপক্ষে দুটি এবং শেষ আটে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১টি গোল হজম করতে হয়েছে মার্তিনেজকে।
তবে এখনো মার্তিনেজের ভাগ্য পুরোপুরি ঝুলে আছে বুধবারের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ওপর। ইতিহাস বলছে, গত পাঁচটি বিশ্বকাপের চারবারই গোল্ডেন গ্লাভস উঠেছে চ্যাম্পিয়ন দলের গোলরক্ষকের হাতে। ফলে শেষ পর্যন্ত কে হাসবে বিজয়ের হাসি, তার ওপরও নির্ভর করছে অনেক কিছু।
আপাতত সব সমীকরণ মেলালে স্পেনের ২৯ বছর বয়সী, ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অ্যাতলেতিকো বিলবাও তারকা উনাই সিমনই গোল্ডেন গ্লাভসের সবচেয়ে বড় দাবিদার। তবে সেমিফাইনাল আর ফাইনালের মহারণেই লুকিয়ে আছে আসল রোমাঞ্চ। মাঠের শেষ লড়াই-ই বলে দেবে কার হাতে উঠছে বিশ্বকাপের এই সেরা গোলরক্ষকের সম্মান।












