নামাজ পড়ছিলেন স্ত্রী। এ সময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। মেয়ের চিৎকার শুনে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন মা-বাবা। এ সময় তাদেরও কুপিয়ে আহত করা হয়। বরিশালের বাকেরগঞ্জে এ ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় রুমানার স্বামী উজ্জ্বল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ভোর ৬টার দিকে উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন রুমানা আক্তার, তার মা মাহমুদা বেগম ও বাবা মিন্টু। তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাড়িয়াল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মন্টু হাওলাদারের ছেলে উজ্জ্বল হাওলাদারের সঙ্গে একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তমপুর গ্রামের মিন্টুর মেয়ে রুমানা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জেরে প্রায় দুই মাস আগে রুমানা বাবার বাড়িতে চলে যান। ঘটনার দুই দিন আগে উজ্জ্বল শ্বশুরবাড়িতে আসেন।
শনিবার ভোরে রুমানা নামাজ পড়ছিলেন। এ সময় উজ্জ্বল হঠাৎ তাকে ধারালো চাকু দিয়ে কোপাতে শুরু করেন বলে জানা গেছে। মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার মা মাহমুদা বেগমও হামলার শিকার হন। একপর্যায়ে রুমানার বাবা মিন্টু এগিয়ে এলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলার পর আহত তিনজনকে ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যান উজ্জ্বল। পরে তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, অভিযুক্ত উজ্জ্বল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।












