কুমিল্লাশুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঘুস খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ঘুষের অভিযোগ বন্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে বাংলাদেশ ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং ব্যুরো (বিএমইটি) কার্ডের প্রচলিত নিবন্ধন ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য।

হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, গত এক সপ্তাহ ধরে বিএমইটি কার্ড বা ক্লিয়ারেন্স দেওয়া বন্ধ রয়েছে। এতে বিদেশগামী কর্মীদের মধ্যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে এবং আন্দোলনের ঘোষণাও এসেছে। তবে তার অভিযোগ, আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড দেওয়া বন্ধ থাকলেও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে গোপনে কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

বিএমইটি কার্ডের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, প্রবাসী কর্মীদের জন্য মূল প্রয়োজন একটি নির্ভুল ও তথ্যসমৃদ্ধ নিবন্ধনভিত্তিক ডেটাবেজ। এতে কোনো কর্মী কোন দেশে এবং কোন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করছেন, সে তথ্য সংরক্ষিত থাকলে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, কর্মহীনতা কিংবা মৃত্যুর মতো পরিস্থিতিতে কর্মী ও তার পরিবারকে দ্রুত সহায়তা দেওয়া সম্ভব।

এ ছাড়া যুদ্ধ বা আঞ্চলিক সংঘাতের সময় কর্মীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা, মৃতদেহ দেশে ফেরত পাঠানো এবং বিদেশে বেতন-ভাতা না পেলে দূতাবাসের মাধ্যমে সহযোগিতা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নির্ভুল তথ্যভান্ডার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হাসনাতের প্রস্তাব, প্রচলিত প্লাস্টিক কার্ডনির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্য সমন্বয় করে একটি ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করা উচিত। তার মতে, এ ক্ষেত্রে তথ্য ম্যানুয়ালি পূরণের পরিবর্তে নিরাপদ এপিআইয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি ডেটাবেজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য যাচাই করা যেতে পারে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) সঙ্গে সরাসরি এপিআই সংযোগের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। একইভাবে ভিসা, দূতাবাসের অনুমোদন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্যও অনলাইন ও রিয়েল-টাইম পদ্ধতিতে যাচাইয়ের কথা বলেছেন।

তার মতে, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা মৃত্যুজনিত সহায়তার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সুবিধা, কর্মহীন অবস্থায় প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং বিমাসংক্রান্ত তথ্যও একই ডেটাবেজে সংযুক্ত করা যেতে পারে।

হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে হার্ডকপি ও ম্যানুয়াল যাচাইয়ের ওপর নির্ভরতার কারণে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বাড়ছে এবং দালালচক্রের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তার ভাষ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম তথ্য যাচাই করা গেলে এ ধরনের হয়রানি ও অনিয়ম কমানো সম্ভব।

ভারত ও নেপালের উদাহরণ তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা বলেন, প্রবাসী কর্মী ব্যবস্থাপনায় এসব দেশের কিছু পদ্ধতি বাংলাদেশ অনুসরণ করতে পারে। বিশেষ করে ভারতের ই-মাইগ্রেট ও প্রোটেক্টর অব ইমিগ্র্যান্টস (POE) ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মীদের জন্যই ছাড়পত্রের প্রয়োজন রাখা হয়েছে এবং অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

নেপালের ফ্রি ভিসা ও ফ্রি টিকিট নীতির কথাও উল্লেখ করেন হাসনাত। তার দাবি, এ ধরনের নীতির ফলে নিয়োগকর্তার ওপর কিছু ব্যয়ভার দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং দালালনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর হতে পারে।

বাংলাদেশে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার বক্তব্য, অভিবাসন ব্যয় বেশি হওয়ায় প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে ঘুষ, দালালচক্র ও অন্যান্য অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হলে বিদেশ যেতে একজন কর্মীর ব্যয় আরও বেড়ে যায়।

সবশেষে প্রবাসী কর্মীদের জন্য হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে বিএমইটির বর্তমান নিবন্ধন ও ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের আহ্বান জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। তার মতে, বিএমইটিকে ‘গেটকিপার’ না বানিয়ে একটি কার্যকর ও তথ্যভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থায় রূপান্তর করা প্রয়োজন।