কুমিল্লাবুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: মন্ত্রী আমিন উর রশিদ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। হাওর, বাওড়, নদীনালা ও সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত ‘বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা (২০২৫-২৬) ও পরিকল্পনা প্রণয়ন (২০২৬-২৭)’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে পরিচালিত গবেষণার ফলেই বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। চাষের মাছের উৎপাদন, গুণগত মান ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রাকৃতিক মাছের প্রজননক্ষেত্রগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় এই সংকট মোকাবিলায় চলতি বছর থেকেই বড় বাজেট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।

গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দেশি মাছের প্রজনন, জাত উন্নয়ন এবং হারিয়ে যেতে বসা বিভিন্ন প্রজাতি পুনরুদ্ধারে গবেষণা জোরদার করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, মাছের রোগ প্রতিরোধ এবং মানসম্মত পোনা উৎপাদন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, জনসচেতনতাও বাড়াতে হবে। মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উপাদানযুক্ত খাদ্য ব্যবহার পরিহার করে নিরাপদ মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।

মাছ রপ্তানি প্রসঙ্গে আমিন উর রশিদ বলেন, আগামী দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ বিদেশে রপ্তানি করতে চায় সরকার। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে মাছের গুণগত মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। মাছের স্বাদ ও গুণগত মান অনেকাংশে পানির গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে। তাই জলাশয়ের দূষণ রোধ এবং মাছের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নদী ও খাল খননের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ বাড়ানো এবং জলাবদ্ধতা কমানো গেলে মাছের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম।

এ সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএফআরআইয়ের বিজ্ঞানী, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও জেলে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএফআরআইয়ের পরিচালক ড. মো. আমিরুল ইসলাম