মো: জহিরুল ইসলাম খান।
হাসপাতালে রোগী আছেন, আছে চিকিৎসা সেবার নানা আয়োজন। কিন্তু নিয়োগ পাওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগ দেননি পাঁচ চিকিৎসক। এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে এবার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসাসেবার বাস্তব চিত্র সরেজমিনে দেখেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার সকালে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালে হাজির হন তিনি। ঘুরে দেখেন হাসপাতালের ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও শৌচাগার। শুধু অবকাঠামো পরিদর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, সরাসরি কথা বলেন রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে। জানতে চান, চিকিৎসা পেতে কোনো ভোগান্তি হচ্ছে কি না, মিলছে কি না প্রয়োজনীয় ওষুধ।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে নিয়োগ পাওয়ার পরও দীর্ঘদিন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া পাঁচ চিকিৎসকের বিষয়ে জানতে পারেন মন্ত্রী। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন তিনি।
পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়েও খোঁজ নেন। যেসব ত্রুটি চোখে পড়েছে, সেগুলো দ্রুত সংশোধনের নির্দেশনাও দেন সংশ্লিষ্টদের।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে এসে কোনো রোগী যেন চিকিৎসাবঞ্চিত না হন। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে দালালচক্রের হয়রানি বন্ধ, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
চিকিৎসক নিয়োগের পরও কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, আর হাসপাতালে এসে রোগীদের ভোগান্তি—স্বাস্থ্যসেবার এই দুই বাস্তবতার মধ্যে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনের পর নির্দেশনাগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।












