কুমিল্লাবুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তৃণমূল নারীদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সিড মানি দেওয়া হচ্ছে : মন্ত্রী

প্রতিবেদক
Cumilla Press
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১০:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

তৃণমূল নারীদের জীবনমান ও দক্ষতা বাড়াতে উপজেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও সিড মানি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবেই তৃণমূল নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা অর্জন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কর্মক্ষেত্র ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর ভূমিকা বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, কর্মজীবী মায়েদের কষ্ট লাঘবে দেশব্যাপী ডে-কেয়ার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশু অধিকার সুরক্ষা এবং শিশুশ্রম নিরসনেও সরকার কাজ করছে।

এ ছাড়া, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপন, তৈরি পোশাক খাত, কেয়ার গিভিং, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কার্বন ট্রেডিং, উত্তরাধিকার আইন এবং ডিএনএ ল্যাবের কার্যক্রম আধুনিক ও শক্তিশালীকরণসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠকে মতবিনিময় হয়।

সাক্ষাৎকালে নরওয়েকে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নরওয়ে সরকারের উন্নয়ন সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও উন্নয়ন ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত গত দুই বছরে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বাংলাদেশের নারী শিক্ষা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রশংসা করার পাশাপাশি তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশি নারীদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ুগত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ওই অঞ্চলের নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের চলমান জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানান নরওয়ের রাষ্ট্রদূত।

ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারী অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে নারীদের নামে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছেন। প্রতি পাঁচ সদস্যের জন্য একটি করে কার্ড দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের কোনো খরচ নয়; এটি মূলত একটি কার্যকর ও টেকসই সামাজিক বিনিয়োগ। কার্ড থেকে পাওয়া অর্থ নারীরা পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়, ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয়সহ বিভিন্ন কাজে ব্যয় করতে পারবেন।

এ সময় দক্ষ কেয়ার গিভারের বৈশ্বিক চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে দক্ষ কেয়ার গিভার তৈরি এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়। এ ক্ষেত্রে নরওয়ের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

পাশাপাশি, বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প নরওয়েসহ ইউরোপের বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।

সাক্ষাতের একপর্যায়ে ডিএনএ ল্যাব আধুনিকায়নে নরওয়ের কারিগরি সহায়তা চান এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ বিষয়ে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।