কুমিল্লাসোমবার, ২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তিস্তা অববাহিকায় ৪৮ ঘণ্টায় বন্যার শঙ্কা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ১৯, ২০২৬ ৯:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগামী দুই দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। এর প্রভাবে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। একইসঙ্গে কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও নদী উপচে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত পূর্বাভাস প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সিলেট, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগে এবং ভারতের মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী দুই দিন রংপুর ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে আবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় ব্রহ্মপুত্রের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনার পানি বেড়েছে। আগামী পাঁচ দিন পানি আরও বাড়তে পারে। ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এছাড়া ছাতক ও শেরপুর পয়েন্টে নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পানি আরও বাড়লে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। কোথাও কোথাও বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিও স্থিতিশীল থাকতে পারে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিন তা বাড়তে পারে। তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া, তারাপুর ও হরিপুর স্টেশন বর্তমানে সতর্কসীমায় রয়েছে। পানি আরও বাড়লে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

মধ্যাঞ্চলে সোমেশ্বরী ও ভুগাই নদীর পানি বেড়েছে। সোমেশ্বরী নদীর কমলাকান্দা স্টেশন বর্তমানে সতর্কসীমায় রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীর কিছু অংশে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় গঙ্গার পানি বাড়লেও পদ্মার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী পাঁচ দিন উভয় নদীর পানি বাড়লেও বিপৎসীমার নিচেই থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি আগামী তিন দিন মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে। একইভাবে হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচে থেকে স্থিতিশীল থাকতে পারে। উপকূলীয় নদীগুলোতে আগামী দুই দিন স্বাভাবিক জোয়ার অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।