কুমিল্লামঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খালি গায়ে অফিস করছেন তহশিলদার কাশেম কুমিল্লার জগন্নাথপুর ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুমিল্লা সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়, হয়রানি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন কয়েকজন সেবা গ্রহীতা।

অভিযোগের বিষয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে ভূমি অফিসে যায় একটি গণমাধ্যমকর্মী দল। এ সময় অফিসে প্রকাশ্যে অর্থ লেনদেনের একটি দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট নায়েব আবুল কাশেমে সাহেবের সঙ্গে সাংবাদিকদের বাকবিতণ্ডা ও অসদাচরণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনের সময় ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি নায়েব ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে সহযোগিতার পরিবর্তে ক্ষুব্ধ ও অশালীন আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাদের।এ ঘটনায় উপস্থিত কয়েকজন সেবা গ্রহীতাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নামজারি, খারিজসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফি’র পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ দাবি বা আদায় করা হচ্ছে। এমনকি প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং অর্থের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে নথিপত্র, সরকারি ফি’র রসিদ ও সংশ্লিষ্ট লেনদেনের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

সরেজমিনে অফিসের কার্যক্রম চলাকালে নায়েবের পোশাক ও অফিস পরিচালনার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন সেবা গ্রহীতা। তাদের অভিযোগ, সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অফিসের শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।

সেবা নিতে আসা কয়েকজনের দাবি, সাধারণ একটি ভূমিসেবা পেতেও তাদের নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সরকারি ফি কত—এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনেক সেবা গ্রহীতাকে অতিরিক্ত অর্থের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নায়েবের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা বা অসদাচরণের অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নায়েব আবুল কাশেমের সাহেবের বক্তব্য জানা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই আরও নির্ভরযোগ্য হবে।

সেবা গ্রহীদের অভিযোগ, সরকারি ফি’র বাইরে অর্থ আদায়, হয়রানি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( রাজস্ব) মোহাম্মদ মশিউজ্জামান বলেন, এভাবে খালি গায়ে অফিস করার সুযোগ নেই। কোন অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।