স্টাফ রিপোর্টার:
বিএনপির নেতার মানহানি মামলায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। এদিকে গ্রেফতারের পর প্রায় ২৪ ঘন্টা হয়ে গেলেও তাকে আদালতে এখনো পাঠানো হয়নি।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, তাকে আদালতে দেরি করে পাঠানোর উদ্দেশ্য হলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। তাকে আরো কয়েকটি মামলায় জড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। তার জামিন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার জন্য এ ষড়যন্ত্র চলছে বলে জানা গেছে।
বুধবার বিকালে উপজেলার গাইঢুলি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে মুরাদনগর থানার পুলিশ।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ জুন রাতে হিন্দু নারীকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ শিরোনামে “মুরাদনগর লাইভ টিভি” নামক একটি অনলাইন পেইজে সাংবাদ প্রকাশ হয়। এ ঘটনায় জড়িত একমাত্র আসামি ফজর আলীকে বিএনপি নেতা উল্লেখ করে সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফ তার অনলাইন পেইজে সংবাদটি প্রচার করেন।
এ সংবাদে বিএনপি নেতা উল্লেখ করায় ২০২৫ সালের ৯ই জুলাই মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বাদী হয়ে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১১ নম্বর আমলি আদালতে ১ হাজার কোটি টাকার মানহানির একটি মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মমিনুল হক অভিযোগটি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এ মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফ উপজেলার সদর এলাকার মৃত মনিরুল হকের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকা, মানবকণ্ঠ ও স্থানীয় আজকের কুমিল্লায় পত্রিকার মুরাদনগর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।
এই বিষয়ে মুরাদনগর থানার ওসি গতকাল বুধবার বিকেলে জানান, আরিফ যে সাংবাদিক তা আমরা জানতাম না । একটি মামলায় ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে তাকে আদালতে পাঠাতে কেন বিলম্ব করা হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওসির মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে ওসির মন্তব্যকে হাস্যকর বলেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। কারণ মুরাদনগরে আরিফ বেশ জনপ্রিয় সাংবাদিক। রাজনৈতিক কারণে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।












