ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে আসছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ সীমিত দেখানো হলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ ও বিকল্প প্রতিবেদনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিচালনা, সামরিক অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম মেরামতে ইতোমধ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলারের চাপ তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে যুদ্ধ ব্যয় ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হতাহত নিয়েও রয়েছে দ্বিমত। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪০০’র বেশি আহত হয়েছেন। তবে স্বাধীন কিছু সূত্রে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও ক্ষতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। উন্নত যুদ্ধবিমান, নজরদারি প্ল্যাটফর্ম ও ট্যাংকার বিমানের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশনাল সক্ষমতায় চাপ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে কিছু পুরোনো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হারালে তা দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন।
নৌবাহিনীতেও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একটি বিমানবাহী রণতরীতে দুর্ঘটনার পর সেটিকে সাময়িকভাবে অপারেশন থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে, যা সামগ্রিক সামরিক প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই সংঘাতের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। যুদ্ধ ব্যয়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ এবং তেলের দাম বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
সব মিলিয়ে, এই সংঘাত শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।














