হবিগঞ্জে আটকের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদী হাসানসহ তিনজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়া অপর দুজন হলেন বৈছাআর নেতা মির্জা সুমন ও মো. রাকিব। তাদের ছেড়ে দেওয়ার খবর পেয়ে থানার ফটকের সামনে সংগঠনের নেতাকর্মী, স্বজন ও সংবাদকর্মীরা জড়ো হন।
এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকা থেকে মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছিল। বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় তাদের থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মাহদী হাসান, মির্জা সুমন ও মো. রাকিবের অভিভাবকেরা থানায় গিয়ে মুচলেকা দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুক্তির পর মাহদী হাসান সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, নিরাপত্তার কথা বলে তাকে থানায় রাখা হলেও যারা তার জন্য হুমকি বলে তিনি মনে করেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রায় ২১ ঘণ্টা আটকে রাখাকে তিনি ‘অন্য রকম শাস্তি’ বলেও মন্তব্য করেন।
তার দাবি, শহরে লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গ্যাস সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ তাদের জোর করে থানায় নিয়ে যায়। বিক্ষোভের আগের রাতেও পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালানো এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেন তিনি।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে একটি বক্তব্যের পরও আলোচনায় এসেছিলেন মাহদী হাসান। ওই বক্তব্যের পর পুলিশ তাকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুল হক বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় তিনজনকে আটক করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মুচলেকায় কী শর্ত ছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।












