কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে হত্যা, ৮ মাসেও বিচার না পাওয়ায় মানববন্ধন

প্রতিবেদক
Cumilla Press
নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১২:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে যৌতুক না দেয়ায় সাদিয়া আক্তার মাহি হত্যার ঘটনায় আট মাসেও বিচার না পাওয়ায় মানববন্ধন করেছে পরিবার ও এলাকাবাসী ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ১২ টায় নাসিরনগর উপজেলা সদরের শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবার, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেন।

পরিবার ও মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, তিনবছর পূর্বে নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নের খান্দুরা গ্ৰামের আব্দুল করিম এর ছেলে আলী আহমদ এর সাথে বিয়ে হয় হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার পিয়াইম গ্ৰামের দিয়ারিশ মিয়ার মেয়ে সাদিয়া আক্তার মাহির, বিয়ের পর থেকে-ই যৌতুক এর দাবিতে দীর্ঘদিন যাবত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতো তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

গত (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার খান্দুরা তার শশুর বাড়ি থেকে সাদিয়া আক্তার মাহির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ, পরিবারের অভিযোগ, শ্বাসরোধে মুখে বিষ ঢেলে তাকে হত্যা করা হয়। এ বিষয়ে গত (১ মার্চ ২০২৬) তারিখে নাসিরনগর থানায় তার স্বামী সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মাহির বাবা দিয়ারিশ মিয়া। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হলেও মুল আসামিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এদিকে মামলার পুর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে প্রেরণ করেন নাসিরনগর থানার এস আই সুমন দাস, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে হত্যা নয় অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় তার। এ রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছে নিহতের পরিবার।

মানববন্ধনে নিহতের বাবা বলেন, আমার মেয়েকে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে আসছিল, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এরা সবাই মিলে আমার সরল সোজা মেয়েটাকে হত্যা করে, কিন্তু দুঃখের বিষয় আসামিদের গ্রেফতার করা হয়নি।

নিহতের বাবা আরোও বলেন, আসামিদের গ্রেফতার করার কথা বললে পুলিশ বলে সব মামলার আসামিদের গ্রেফতার করা যায় না, আসামির টাকায় আমার সংসার চলে এমন মন্তব্য করেছেন এস আই সুমন দাস অভিযোগ করেন নিহতের বাবা দিয়ারিশ মিয়া।

অভিযোগের বিষয়ে নাসিরনগর থানার এস আই সুমন দাস বলেন, আসামির টাকায় সংসার চলে এমন মন্তব্য আমি করিনি, আর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এ যা এসেছে তা-ই লেখা হয়েছে, রিপোর্ট এ ভুল কিছু লেখা হয়নি।

এ বিষয়ে নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ পরিপূর্ণ তদন্ত করে এ রিপোর্ট দিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মধ্যে মার্ডারের কোনো আলামত পাওয়া যায় নি এবং আসামির টাকায় পুলিশের পরিবার চলে এ অভিযোগ টি অবাস্তব।