কুমিল্লাবুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাবা-মেয়েকে বাড়ির আঙিনায় দাফন, মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি আহত স্ত্রী–ছেলেকে

প্রতিবেদক
Cumilla Press
অক্টোবর ২১, ২০২৬ ২:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নাটোরে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম (৫০) ও তাঁর মেয়ে তাছফিয়া আক্তারকে (৯) পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বাড়ির আঙিনায় দাফন করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে মির্জাগঞ্জের হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা (র.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে তাঁদের দাফন করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাবা-মেয়ের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। তাঁদের বাড়ি মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের থানা-সংলগ্ন এলাকায়।

একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা আক্তার (৪০) ও ছেলে লাবিব (১১)। মা ও ছেলে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর আগে তাঁদের নাটোর ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শহিদুল ইসলাম মাগুরা জেলায় ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রুবিনা আক্তার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী পূবালী ব্যাংক শাখার কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।

নিহত শহিদুল ইসলামের বড় ভাই ফারুক হাওলাদার বলেন, পূজার ছুটিতে সপরিবার রাজশাহীতে ভায়রার বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম। গত সোমবার বিকেল চারটার দিকে শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা আক্তার মেয়ে তাছফিয়া ও ছেলে লাবিবকে নিয়ে মির্জাগঞ্জ থেকে স্বামীর কর্মস্থল মাগুরায় পৌঁছান। সেখান থেকে গতকাল সকালে সপরিবার বাসে করে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন। পথে নাটোরে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাকের সঙ্গে তাঁদের বহনকারী বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শহিদুল ইসলাম ও তাঁর মেয়ে তাছফিয়া মারা যান।

আরও বলেন, ‘পূজার ছুটিতে সবাই মিলে রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাড়িতে আনন্দ করতে যাচ্ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল। আমার ভাই শহিদুল ইসলাম ও ভাতিজি তাছফিয়া ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে শহিদুলের স্ত্রী রুবিনা ও ছেলে লাবিব। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনা তাঁদের জানানো হয়নি।’

গতকাল মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জন নিহত এবং অন্তত ৩২ জন আহত হন।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়নি। পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছে।