কুমিল্লামঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাইবান্ধায় সম্পত্তি নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধ, আটকে গেলো বাবার দাফন

প্রতিবেদক
Cumilla Press
অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মৃত্যুর পরও মেলেনি শেষ বিদায়ের শান্তি। জমি ও সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যকার চরম বিরোধের জেরে আটকে গেছে বৃদ্ধ বাবার জানাজা ও দাফন।

ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালিদহ বকশীগঞ্জ গ্রামে।ন
মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন বেপারী (৭৫)। রোববার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।

মৃত নাজির উদ্দিন বেপারীর এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলের নাম ইদ্রিস আলী এবং মেয়ের নাম হালিমা বেগম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টায় নাজির উদ্দিন বেপারীর নিজ বাড়ির আঙিনায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল। কিন্তু জানাজা ও দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার মুহূর্তে বাধ সাধেন মেয়ে হালিমা বেগম। তার অনড় অবস্থানের কারণে নির্ধারিত সময়ে জানাজা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বিকেল ৪টা বাজলেও বাবার কাফন জড়ানো মরদেহ বাড়ির উঠানেই পড়ে থাকে।

হালিমা বেগমের অভিযোগ, তার বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে ভাই ইদ্রিস আলী কৌশলে বাবার সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। এর ফলে তিনি পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই সম্পত্তিতে তার আইনি ও শরীয়তসম্মত অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাবার দাফনে রাজি নন হালিমা।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে আসেন। ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিনসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ। এ সময় হালিমা বেগমকে নগদ দেড় লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি হালিমা। টাকার বিনিময়ে নয় বরং দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তিতে নিজের অধিকার আদায়ের দাবিতে অনড় থাকেন তিনি।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন জানান, ঘটনাটি তার বাড়ির কাছাকাছি। খবর পেয়ে তিনি নিজে উভয় পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালান। কিন্তু মেয়ের অনড় অবস্থানের কারণে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সুরাহা করা সম্ভব হয়নি।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন বলেন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ আটকে রাখার মতো এমন ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঘটনাটি জানার পর থেকেই আমরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আপোসের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সমাধান এলেই দ্রুত জানাজা ও মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুর রহমান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। সামাজিকভাবে এই বিরোধ সমাধানের চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইদ্রিস আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একদিকে মৃত বাবার শেষ বিদায়ের অপেক্ষা, অন্যদিকে নিজের অধিকার আদায়ে মেয়ের আপসহীন অবস্থান– সব মিলিয়ে পুরো এলাকায় থমথমে ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।