হাদী হত্যা ও রাজপথের প্রতিশ্রুতি: স্বার্থের রাজনীতির এক ‘জ্বলন্ত প্রমাণ’?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে শরীফ ওসমান বিন হাদি (হাদী) হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী রাজপথের রাজনৈতিক ভূমিকা। বক্তব্যটিকে ঘিরে একাংশের তীব্র সমালোচনা চললেও, এর নেপথ্যে থাকা রাজপথের তৎকালীন ভূমিকা ও বর্তমান নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, হাদী যখন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন, তখন সর্বপ্রথম সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের নেতৃত্বে গণঅধিকার পরিষদ ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরাই রাজপথে নেমে বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। সেই সময়ে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা দল ও নেতারা হাদী হত্যার বিচারের দাবিকে জাতীয় দাবিতে পরিণত করেছিলেন।
তবে তৎকালীন ঘটনার চিত্র স্মরণ করে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাদী যখন মারা যান, তখন লাশের গাড়ির ওপর উঠে অনেক নেতাকেই বলতে শোনা গিয়েছিল—”হাদী হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”
কিন্তু অভিযোগ উঠছে, তৎকালীন সময়ে সুষ্ঠু বিচার ও ব্যবস্থা নেওয়ার মতো উপযুক্ত সুযোগ ও পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে নিজেদের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়িত হয়নি।
গণঅধিকার পরিষদের পদ স্থগিত হওয়া নেতা জসিম উদ্দিন এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হাসনাত আবদুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেক্ষাপটসহ সাম্প্রতিক নানা রাজনৈতিক মেরুকরণকে কেন্দ্র করে এখন সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাদী হত্যার বিচার নিশ্চিত না করে রাজপথ থেকে সরে যাওয়া এবং প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে উদাসীনতা আসলে আমাদের দেশের চলতি রাজনীতির এক করুণ বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে। যেখানে “স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে আন্দোলন থমকে যায়”—হাদী হত্যার বিচার না হওয়া যেন সেই স্বার্থের রাজনীতিরই এক জ্বলন্ত প্রমাণ।
পরামর্শ: আপনার নিউজ পোর্টালের নীতি বা সোশ্যাল মিডিয়া পেজের ধরন অনুযায়ী আপনি চাইলে সংবাদটির ভাষা বা শিরোনামের টোন কিছুটা পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে পারেন।











