কুমিল্লারবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা: চট্টগ্রাম থেকে সিএনজিচালক গ্রেপ্তার, উদ্ধার আইফোন

প্রতিবেদক
Cumilla Press
অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নাইদুল হোসাইন ইমন

পুলিশের দাবি, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা; নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার আসামির

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৫) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে, নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহ শনাক্ত করেন। তাঁর নাম জান্নাতুল তাজমিন (১৫)। তাঁর স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। জান্নাত নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে জান্নাত নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন। চালক সুমন মিয়ার সঙ্গে ৩০০ টাকায় ভাড়া ঠিক হয়।

পুলিশের দাবি, যাত্রাপথে জান্নাত চালককে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনেন। এরপর সুমন তাঁকে সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নির্ধারিত পথ থেকে অন্যদিকে নিয়ে যান। নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে নির্জন এলাকায় পৌঁছান তিনি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্জন স্থানে পৌঁছে অটোরিকশা থামালে জান্নাত জায়গাটি সম্পর্কে জানতে চান। এটি তাঁর বাসার এলাকার পথ নয় বুঝতে পেরে তিনি ভয় পেয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁকে আটকে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থের চেষ্টা করা হলে তিনি চিৎকার করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন সুমন তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জান্নাত দুর্বল হয়ে পড়েন।

ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জান্নাতকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর জান্নাতের হাতব্যাগ থেকে তাঁর ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন সুমন। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন। এরপর ভাড়ায় চালিত আরেকটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে একটি পুকুরের পাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার, বাখরাবাদে আইফোন উদ্ধার

পুলিশ জানায়, ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরের পাড়ের জঙ্গল থেকে জান্নাতের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর লালমাই থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মামলার তদন্ত, প্রয়োজনীয় আলামত পরীক্ষা এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচারিক সত্য নির্ধারিত হবে।