কুমিল্লারবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খাবার কিনে দেওয়া তাজমীনকেই হত্যা করে অটোরিকশাচালক

প্রতিবেদক
Cumilla Press
অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভুক্তভোগি তাজমীনের ব্যবহৃত মোবাইল (বামে), আসামি অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া।

মাঝরাতে বাড়ি ফেরার পথে অটোরিকশাচালকের ক্ষুধার কথা শুনে যে শিশুটি নিজের ১০০ টাকা দিয়ে রুটি ও কলা কিনে দিয়েছিল, সেই চালকের লোভ ও পৈশাচিকতার শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে হয়েছে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমীনকে। শর্টকাটে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়, মৃত্যু নিশ্চিত করতে চালক সুমন মিয়া তাজমীনের মাথার ওপর নিজের পা দিয়ে চেপে ধরেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ এসব তথ্য জানায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার জগতপুর চরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে জান্নাতুল তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিন গত বুধবার গভীর রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে রেসকোর্সের বাসার উদ্দেশ্যে সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমীন। এ সময় শর্টকাটে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে চালক তাকে ফাঁকা ও নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে পাশবিক নির্যাতন ও পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুলিশ বর্তমানে ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর তাজমীনের ব্যবহৃত আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল ঘাতক সুমন। পরবর্তীতে পুলিশ তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে ফোন এবং নিহতের ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করে। গত ৪ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ থাকার বিষয়টিসহ এর আগের চার দিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে কার কার সংস্পর্শে ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, মামলার প্রতিটি দিক অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। শনিবার বিকেলে অভিযুক্ত সুমনকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত-৬-এর বিচারক মো. মমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয়।

এদিকে তাজমীন হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লার অন্যতম প্রবেশদ্বার পদুয়ার বাজার এলাকার নৈশ নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত নামলেই এই এলাকায় চালকের ছদ্মবেশে সক্রিয় হয়ে ওঠে একদল ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী চক্র। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল ঠিক একই এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী।

পদুয়ার বাজারের নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ফয়সাল হোসেন রাব্বী জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে ফিরে পদুয়ার বাজারে গাড়ির জন্য অপেক্ষার সময় একটি অটোরিকশাচালক শর্টকাটে শাসনগাছা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে তোলে। কিন্তু চালক গাড়িটি উল্টো পথে নিতে শুরু করলে এবং আগে থেকেই যাত্রীবেশে থাকা অন্য এক ব্যক্তির আচরণে সন্দেহ হওয়ায় তিনি প্রস্রাবের বাহানা দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে হোটেলে আশ্রয় নেন। এ সময় গাড়িটি তার পিছুও নিয়েছিল।

একের পর এক এমন রোমহর্ষক অপরাধের ঘটনায় পদুয়ার বাজারসহ পুরো নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে রাতের পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, ছিনতাইকারী ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক অভিযান চালানো হচ্ছে।