বগুড়ার কাহালুতে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশে চালককে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে হত্যার পর ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। পরে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ডোবা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের পাশ থেকে একটি অটোরিকশাও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বেলঘরিয়া বড়ইতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বেলঘরিয়া বড়ইতলা এলাকার একটি কাঁচা রাস্তার পাশে অটোরিকশায় এক নারীকে দুই শিশুসহ বসে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এ সময় তাদের পরিচয় ও সেখানে অবস্থানের কারণ জানতে চাইলে ওই নারী জানান, তিনি তার প্রেমিকের সঙ্গে এসেছেন। তার প্রেমিক তাকে সেখানে রেখে চলে গেছেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে এক ব্যক্তি এসে নিজেকে ওই নারীর স্বামী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে স্থানীয়রা আশপাশে খোঁজ নিতে গিয়ে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ভাসতে দেখেন। এরই মধ্যে ওই নারী, পুরুষ ও দুই শিশু অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলের পাশে রেখে সেখান থেকে চলে যায়।
খবর পেয়ে কাহালু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে মরদেহ থানায় নেওয়া হয়। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাত আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে বেলঘরিয়া বড়ইতলা এলাকায় একটি কাঁচা রাস্তার পাশে অটোরিকশায় এক নারী ও দুই শিশুসহ কয়েকজন অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়।
তিনি বলেন, সেখানে থাকা একজন পুরুষ নিজেকে ওই নারীর স্বামী পরিচয় দিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। পরে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় একজন ফোন করে সেখানে একটি লাশের মতো কিছু পড়ে থাকার কথা জানান। এরপর আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি।
ওসি আরও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ওই নারী, পুরুষ ও দুই শিশু সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে মরদেহের সুরতহাল শেষে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের পাশেই অটোরিকশাটি পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি অটোরিকশার চালকের। অটোরিকশাটি নেওয়ার উদ্দেশে চেতনানাশক কোনো ওষুধ খাইয়ে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে পুলিশ প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পেয়েছে। তাদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। পাশাপাশি নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।












