কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকপুত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আটক মো. তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও মোটরসাইকেল কৌশলে নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল। পুরোনো ওই অভিযোগের নথি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে।
অভিযোগকারী আসাদুল্লাহ সোহাগের দাবি, তৎকালীন সময়ে তুহিনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের প্রভাবের কারণে পুলিশ নিয়মিত মামলা নেয়নি। বিষয়টি শুধু সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে তুহিনকে আটকের খবর প্রকাশের পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আগের অভিযোগপত্রের একটি অনুলিপি প্রকাশ করেন সোহাগ। সেখানে তিনি দাবি করেন, একই কৌশলে তুহিন তাকে ডেকে নিয়ে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। পরে থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণ না করে শুধু জিডি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোহাগের ভাষ্য, আগের ওই ঘটনায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বড় অপরাধ করার সাহস পেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তিনি এ নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন।
থানায় জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সদর দক্ষিণ মডেল থানার সালমানপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সোহাগের মা মরিয়ম আক্তার বাদী হয়ে তুহিন হোসেনসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন।
অভিযোগে বলা হয়, এর আগে ২৭ মার্চ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার একটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি সুজুকি মনোটন মোটরসাইকেল কেনেন সোহাগ। পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে ২৬ এপ্রিল রাতে তুহিন কিছুক্ষণের জন্য মোটরসাইকেলটি চালানোর কথা বলে নিয়ে যান। পরে সোহাগকে জানানো হয়, মোটরসাইকেলটি আর তার কাছে নেই। এরপর সেটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই পুরোনো অভিযোগের বিষয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, জিডির বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্ত নিয়ে ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব না হলেও তদন্তের স্বার্থে পুরোনো অভিযোগটিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ির বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান।
নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের কাছাকাছি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যাওয়ার পর শনিবার বিকেলে তাকে আটক করে পুলিশ।
পরে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ি থেকে অপ্রতিমের মায়ের খোয়া যাওয়া আইফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে আনাস ও ফাহিম নামের আরও দুই কিশোরকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।












