কুমিল্লাবুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মিথিলার রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ার নেপথ্যে যে গল্প

প্রতিবেদক
Cumilla Press
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অভিনয় ও মডেলিংয়ের পাশাপাশি সমাজকর্মী হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। তবে তাঁর একাডেমিক পরিচয়ও বেশ চমকপ্রদ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের উচ্চশিক্ষার বিষয় বেছে নেওয়ার নেপথ্যের গল্প জানিয়েছেন মিথিলা। 

তার কথায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ার সিদ্ধান্তটি খুব একটা পরিকল্পিত ছিল না। বরং ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে যাতায়াতের স্মৃতিই অবচেতনভাবে তাঁকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি টেনে নিয়েছিল।

মিথিলা জানান, এসএসসি ও এইচএসসি—দুটিই তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সম্পন্ন করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। 

মিথিলা বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছি। অনার্স এবং মাস্টার্স দুটোই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছেটা অবশ্য তার মধ্যে তৈরি হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। 

ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে কলাভবনে যাওয়ার স্মৃতির কথা উল্লেখ করে মিথিলা বলেন, ‘আমার ধারণা, অবচেতন মনে আমার ভেতরে একটা একটা ভালোবাসা ছিল ওই জায়গাটার প্রতি। সেখান থেকে আমি ভাবলাম যে, না ঠিক আছে আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ব। কিন্তু যদি পড়ি তাহলে আমি কলাভবনেই পড়ব। অন্য কোনো ডিপার্টমেন্টে পড়ব না।’

তবে কলাভবনে গিয়ে বেশ বিপাকেই পড়েছিলেন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিথিলা। কারণ সেখানে গিয়ে কোন বিষয় বেছে নেবেন, সে সম্পর্কে তার তেমন ধারণাই ছিল না। 

মিথিলা বলেন, ‘সায়েন্সের মানে ম্যাথস, ফিজিকস, কেমিস্ট্রি এসব বিষয় পড়ে আমার অভ্যাস। সেখানে (কলা ভবন) যাওয়ার পর যখন আমাকে বিভিন্ন ধরনের বিষয় বলা হচ্ছিল, পলিটিক্যাল সায়েন্স, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ, ইকোনমিকস—আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।’

মিথিলার পরিবারে তিনিই ছিলেন তার প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয় পড়া উচিত, সে বিষয়ে তাঁকে পরামর্শ দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতাও পরিবারের কাছাকাছি ছিল না। শেষ পর্যন্ত ভর্তি সাক্ষাৎকারের সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ার পরামর্শ পান তিনি। খুব বেশি না ভেবেই সেই বিষয়টিই বেছে নেন।

মিথিলার ভাষায়, “ইন্টারভিউয়ের সময় আমাকে বলল, ‘তুমি রাষ্ট্রবিজ্ঞান না?’ আমি বললাম, ঠিক আছে। তার মধ্যে বিজ্ঞান তো আছে। সে রকমভাবে কিছু জেনে বুঝে আমি আমার বিষয়টা নির্বাচন করতে পারিনি আসলে।’

এভাবেই অনেকটা আকস্মিক সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন মিথিলা। পরে সেই বিষয়েই অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি।