নিজ বাসা থেকে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও টেলিভিশন উপস্থাপক রে ম্যাকডোনাল্ডের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে অভিনেতার ব্যাংককের বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুকালে ৪৮ বছর বয়স হয়েছিল এ অভিনেতার।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন সকালে বাসায় সোফায় অচেতন অবস্থায় ম্যাকডোনাল্ডকে দেখতে পান তার স্ত্রী সিরিনিয়া জিনতানাওয়ারারক। পরে ডাকার পরও স্বামীর কোনো সাড়া না পেয়ে স্ত্রী বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য ও উদ্ধারকর্মীরা হাজির হয়। পরে অভিনেতাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
অভিনেতার স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি ভেবেছিলেন তার স্বামী ঘুমাচ্ছেন। আর সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দেয়ার জন্য সকালে ঘুম থেকে তোলার চেষ্টা করতে গিয়ে স্বামীকে এভাবে আবিষ্কার করেন।
এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ম্যাকডোনাল্ডকে উদ্ধার করার আগে রাত ১২টা ১২ মিনিটের দিকে সোফায় ঢলে পড়ছেন। তবে এখনো তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ম্যাকডোনাল্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সেরা ও প্রতিভাবান অভিনেতা হিসেবে পরিচিত। নব্বইয়ের দশকে জনপ্রিয় টিভি শো ‘টিন টক’ উপস্থাপনার মাধ্যমে খ্যাতি লাভ করেন তিনি।
১৯৯৭ সালে ‘ফান বার কারাওকে’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে থাইল্যান্ডজুড়ে প্রশংসা লাভ করেন। সিনেমাটি মুক্তির পর সেরা অভিনেতা হিসেবে ‘সুপান্নাহংস ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন তিনি। একই বছর ব্যবসাসফল ‘ডাং বিরেলিস অ্যান্ড হিজ ইয়ং গ্যাংস্টার্স’ সিনেমায় অভিনয় করেন। তারপর ১১৯৯৮ সালে ‘ও নেগেটিভ’ সিনেমায় বড় চরিত্রে কাজ করেন।
এ অভিনেতা এক দশকেরও বেশি সময় পর ২০০৯ সালে ‘ডিয়ার গ্যালিলিও’ সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য ৭ম ‘কোমচাদলুয়েক অ্যাওয়ার্ডস’-এ সেরা পার্শ্ব-অভিনেতার পুরস্কার লাভ করেন। পরবর্তীতে ব্যাংককের ‘রোম অ্যালন’র মতো বিভিন্ন ভ্রমণবিষয়ক অনুষ্ঠান করেন এবং ইউটিউবে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করতে থাকেন।
ম্যাকডোনাল্ড থাইল্যান্ডের দর্শকমহলে পরিচিত হলেও স্কটল্যান্ডীয় বংশোদ্ভূত এ তারকার শৈশবের বড় একটি অংশ কেটেছে ইউরোপে এবং এশিয়ায় থিতু হওয়ার আগে যুক্তরাজ্যের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন তিনি।












