কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আমরা ততোটাই বিশ্বাস করি, যতটা বিশ্বাস করি কালিমা তাইয়্যেবাকে।’ একই সঙ্গে তিনি দেশ গঠনে ধৈর্য ধারণ এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লার কবি নজরুল ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মারক উৎসব’-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘১৯৭১ সালে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি, এখন তাদের কাছ থেকেই যুদ্ধের দীক্ষা নিতে হচ্ছে। এটাই সবচেয়ে বড় দুঃখ।’
তিনি বলেন, ‘দেশ গড়ার প্রশ্নে সবাইকে আরেকটু ধৈর্য ধরতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের যুগের মানুষ নন, তিনি তোমাদেরই যুগের। তিনি তোমাদের ব্যথা বোঝেন। তিনি নিজেও নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দলে যোগ দিতে হবে না। দেশের প্রশ্নে, স্বাধীনতার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকুন। তারেক রহমানের হাতে এ দেশ পথ হারাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশ যেখানে, মানুষ যেখানে, মুক্তি যেখানে—আমি সেখানে। তোমরা মেধাবী, তোমাদের নেতৃত্বে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাবে।’
কুমিল্লার উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দেশ বাঁচানোর পাশাপাশি আসুন, সবাই কুমিল্লাকে বাঁচাই। কুমিল্লা পচে গেছে। আমি পরিবর্তনের যাত্রা শুরু করেছি। এর কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, চোখ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আমি বলি, সবার আগে বাংলাদেশের পাশাপাশি সবার আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণ করতে হবে।’
নাজমুল হাসান দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে কুমিল্লার শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থীরা সাহসিকতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক সাকিব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাহিদ চৌধুরী, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আখতার হোসাইন, কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্যসচিব নাসির উদ্দীন, শহীদ হামিদুর রহমান সাদমানের মা কাজী শারমিন, শহীদ মাসুমের পিতা শাহীন মিয়া, ছাত্রশক্তি কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক মোস্তাফা জিহান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক নাঈম ভুঁইয়া এবং সমন্বয়ক ত্বোহা আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।












